৪৭তম বিসিএস-২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফলে বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সহকারী পরিচালক বা সমমানের পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শেরপুর জেলার সদর উপজেলার কৃতী সন্তান মো. শাহরিয়ার ইসলাম। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, স্থানীয় এলাকা এবং জেলার মানুষের মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।


মো. শাহরিয়ার ইসলাম শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান একজন ব্যবসায়ী এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।


শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ২০১৩ সালে শেরপুরের ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৫ সালে টঙ্গী শাখার তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।


কর্মজীবনে প্রবেশের আগে তিনি বিসিএসের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন। ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসে ভাইভা দিলেও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি। তবে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।


অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অবশেষে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।


বর্তমানে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সোনালী ব্যাংক, ঝিনাইগাতী শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।


নিজের এ অর্জন প্রসঙ্গে মো. শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, “বারবার চেষ্টা, ধৈর্য এবং পরিবারের সহযোগিতাই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যারা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আমার পরামর্শ—হতাশ না হয়ে লক্ষ্য ধরে রেখে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”


৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি শুধু তাঁর পরিবারের নয়, শেরপুর সদর উপজেলা ও সমগ্র শেরপুর জেলার জন্যও গৌরব বয়ে এনেছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024