|
Date: 2026-06-29 19:40:38 |
২৯ জুন ২০২৬, কক্সবাজার- কেয়ার বাংলাদেশ তাদের গ্রিন এন্টারপ্রাইজ (জিই+) প্রকল্পের আওতায় আজ কক্সবাজারে ‘ওয়েস্ট ক্যাফে’ নামক এক উদ্ভাবনী উদ্যোগের উদ্বোধন করেছে। দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় উখিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর ক্যাম্পে। অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপস্থিত হন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি), ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি), এনজিও প্ল্যাটফর্ম কক্সবাজার, অ্যাসোসিয়েশন ফর মাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (আমান), ইজিসেন্স, উন্নয়ন সহযোগীবৃন্দ, গণমাধ্যম এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্প- ১৪ এবং ক্যাম্প-১৫ -এর ক্যাম্প ইন-চার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ মুনিবুর রহমান এবং কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস।
অনুষ্ঠানের শুরু হয় একটি প্রাণবন্ত র্যালির মাধ্যমে, যেখানে ক্যাম্পের জনগোষ্ঠী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবী এবং কেয়ার বাংলাদেশের কর্মীরা একসঙ্গে অংশ নিয়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। র্যালিটি গিয়ে শেষ হয় ওয়েস্ট ক্যাফে প্রাঙ্গণে, যেখানে ফিতা কেটে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাফেটি উদ্বোধন করেন।
সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস তার বক্তব্যে বলেন, “এমন একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমি অনুপ্রাণিত ও আনন্দিত। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ, এবং আমি বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে আমরা এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সফল হব।“
স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে ওয়েস্ট ক্যাফে নিয়ে একটি পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা জানতে পারেন এই ক্যাফে কীভাবে ক্যাম্পবাসীদের জন্য এমন একটি জায়গা হয়ে উঠতে পারে, যেখানে তারা ঘর ও ক্যাম্পের বর্জ্য নিয়ে এসে তার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ক্যাফেতে থাকবে একটি নলেজ কর্নার বা লাইব্রেরি, যেখানে ক্যাম্পের শিশু-কিশোর ও তরুণরা ক্যাফের সেবা উপভোগ করার পাশাপাশি বই পড়া ও শেখার সুযোগ পাবে। এছাড়াও ক্যাফের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (ওয়েস্ট ক্যাফে ওয়েবসাইট ) চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে মানুষ ক্যাফের কার্যক্রম সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে, অংশগ্রহণকারীরা ওয়েস্ট ক্যাফে ঘুরে দেখেন। তারা ক্যাফের বিভিন্ন সেবা কাউন্টার, নলেজ কর্নার, দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যবস্থা এবং ক্যাফে পরিচালনায় কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। পাশাপাশি কীভাবে নিত্যদিনের বর্জ্যকে কমিউনিটির জন্য মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব, সে বিষয়েও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
নিজের বক্তব্যে উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে সম্মানিত প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে শুধু ক্যাম্পের বাসিন্দারাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন না, এটি আশপাশের জমিকেও অনাবাদি করে তুলছে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই উদ্যোগকে সফল করতে হলে পুরো কমিউনিটির, বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে প্রধান অতিথির হাতে ওয়েস্ট ক্যাফের লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। ওয়েস্ট ক্যাফের মাধ্যমে কেয়ার বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার অর্থনীতির চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং একটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
© Deshchitro 2024