|
Date: 2026-06-30 19:48:22 |
ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘The Public Gambling Act, 1867’ বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত না থাকায় পুরোনো আইন বাতিল করে যুগোপযোগী এই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইনে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ দমনে আইনের আওতাভুক্ত সব অপরাধকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করা হয়েছে। এসব মামলার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে সম্পন্ন হবে।
© Deshchitro 2024