|
Date: 2026-07-01 12:55:06 |
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইনের বিরুদ্ধে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করায় জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী ইউএনওর কার্যালয়ে গেলে; তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিস থেকে দ্রুত সটকে পড়েন ইসলামপুর পৌর প্রশাসক পদে দায়িত্ব থাকা ইউএনও নাজমুল হুসাইন।
মঙ্গলবার (৩০) জুন দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে ইউএনওর কার্যালয়ে এঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে রহস্যজনক কারণে প্রায় প্রতিদিনই রাতে অফিস করেন ইউএনও নাজমুল হুসাইন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতেও অফিস করে তিনি। এসময় পৌরসভার একটি কাজের বিল ছাড় করতে ইউএনওকে মোটা অংকের ঘুষ দেওয়া হবে মর্মে অভিযোগ পান স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে স্থানীয় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব। এসময় তিনি
বলেন, 'ইউএনও নাজমুল হুসাইন মনগড়াভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অসহযোগিতা করেছেন। গত স্বৈরাচার সরকারের আমলে যেভাবে প্রশাসন চলছিলো। এখানে ইউএনও সেভাবেই প্রশাসন চালাচ্ছেন।'
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইউএনও নাজমুল হুসাইন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত সোয়া ১০টার দিকে নিজ কক্ষে অফিস করছেন ইউএনও নাজমুল হুসাইন। ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। চলছে এসিও। এসময় ইসলামপুর পৌর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোফাখখারুল ইসলাম, কার্য্য সহকারী বুলবুল আহম্মেদ, আবু সাইদ এবং কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বিলাস কুমার দত্ত বিভিন্ন নথিপত্র ইউএনওকে দেখাচ্ছেন। পাশের কক্ষে অফিস করছেন ইউএনওর উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হক এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ইব্রাহিম খলিল। ওই কক্ষে গিয়ে গভীর রাতে অফিস করার বিষয়ে জানতে চান স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী। এসময় তাঁদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে কাউকে কিছু না বলেই নিজ কক্ষ থেকে দ্রুত সটকে পড়েন ইউএনও নাজমুল হুসাইন।
এবিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নয়া দিগন্তের জামালপুর প্রতিনিধি খাদেমুল হক বাবুুল বলেন, সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ইউএনও নাজমুল হুসাইন গভীর রাতে অফিস করার সত্যতা জানতে আমরা তিন সহকর্মী তাঁর কার্যালয়ে যাই। তখন রাত সোয়া ১০টা। ইউএনও নাজমুল হুসাইনকে দেখি অফিস করছেন। পৌরসভার বেশকয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উপস্থিত। তাঁরা বিকেল ৪টা থেকেই ওখানে।'
সাংবাদিক খাদেমুল হক বাবুল আরও বলেন, 'আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি; মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে পৌরসভার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল ছাড় দিতে পারেন ইউএনও নাজমুল হুসাইন। এনিয়ে আমরা প্রথমে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হকের কক্ষে গিয়ে গভীর রাতে অফিস করার বিষয়টি জানতে চাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়েন ইউএনও নাজমুল হুসাইন।'
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুস সামাদ বলেন, 'আমরা কথা বলতে চাইলে সাড়া না দিয়ে সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে দ্রুত চলে যান ইউএনও।'
পৌর কার্যালয়ের সহকারী বুলবুল আহম্মেদ বলেন, ইউএনও স্যারকে টাকা দিয়ে বিল ছাড় করানোর বিষয়টি আমি জানি না। তবে বিল ছাড় করতে ঠিকাদারের লোকজনের আনাগোনা দেখেছি।'
রাতে অফিস করার বিষয়ে নতুন করে সরকারি আদেশ হয়েছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে মোবাইল ফোনে ইউএনও নাজমুল হুসাইন বলেন, 'সরকারি আদেশ হলে আপনারা জানতে পারবেন।'
রাতে কেন অফিস করছেন; এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি কল কেটে দেন তিনি। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইউএনওর কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ইব্রাহিম খলিল বলেন,
'কাজের চাপে রাতেও অফিস করতে হয়।'
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব অফিস চলার কথা।
© Deshchitro 2024