|
Date: 2026-07-07 23:23:29 |
‘আমার বাবা মোতাব্বির হোসেন মতই মারা যাবার আগে আমার মা এবং তার গর্ভজাত সন্তানদের বাড়ির ১০ শতক জায়গা প্রদান করেন। কিন্ত আমার সৎ ভাই পুলিশের এসআই হেলাল মিয়া পুরো জায়গা দখল করে ২টি ঘর নির্মাণ করেছে। পুলিশের এসআই এ প্রভাবে ক্ষমতার দাপটে সে মাসহ আমাদের বাড়ি থেকে বের দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমার মা তার বাবার বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তগঞ্জে বসবাস করছেন। আমার ভাইয়েরাও বাইরে বাইরে থাকছেন। মাঝে-মধ্যে আমাদের মা স্বামীর বাড়ির টানে তিনি নিজ এলাকায় আসলে তাবে হুমকি-ধামকি দেয় এসআই হেলাল ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। এমনকি আমার ভাই-বোনেদের মিথ্যে মামলা, অভিযোগ দিয়ে চলেছে। গতকাল (সোমবার) আমাদের বাড়ির অংশের গাছও কিছুটা কেটে নিয়েছে হেলালের স্ত্রী সেলিনা। পুলিশের এসআইয়ের ক্ষমতার দাপটে আমরা আজ অসহায়’।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সকালে নিজ গ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের রাহেলা বেগম (৪৮)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বয়োবৃদ্ধ মা খোদেজা বিবি (৭৩) এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বোন মোছা. রহিমা বেগম (৪৪) ও ভাই দুলাল মিয়া (৪১)।
সংবাদ সম্মেলনে রাহেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার আব্বু মোতাব্বির হোসেন মতই মিয়া জীবদ্দশায় ৪ বিয়ে করেছিলেন। আমাদের চার মায়ের গর্ভজাত ১৪ ভাই-বোন। এর মধ্যে ৯ ভাই-বোন জীবিত আছি এবং বাকি ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার আব্বু মারা যাওয়ার পর যতটুকু সম্পদ ছিল তা আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় গ্রামে বিচার-শালিস করে বণ্ঠন করা হয়। আমাদের সৎ ভাই এসআই হেলালের আম্মু তথা আমাদের সৎমা আমার আব্বুর মৃত্যুর কয়েকদিন না পেরোতেই অর্থাৎ ৪০ দিনের আগেই সাহাদতপুর এলাকায় গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেখানে আমার সৎ মায়ের সংসার, সন্তান আছে। সে সংসারে থেকেও তিনি এখানে এসে আমাদের উপর অনেক জুলুম-অত্যাচার করে করেন। আমার সৎ মা, সৎ ভাইয়ের অত্যাচারে আমার আম্মু অনেক আগেই আমাদের নিয়ে তিনি তার বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই আমাদের বিয়ে-শাদি দেন। আমরা শ্বশুর বাড়িতে ও আমার মা, ভাইয়েরা আমাদের নানা বাড়িতে আছেন। আমাদের মামাতো ভাই বোনদের সংসার বড় হয়ে যাওয়ায় আমার মা-ভাই সেখানেও কষ্টে আছেন। এ কারনে ২০২৫ সালে এখানে এসে আমাদের নিজস্ব জায়গায় ঘরবাড়ি তৈরির চেষ্টা করলে আমাদের সৎ মা ও সৎ ভাই এসআই হেলাল আমাদের বাধা দেন এবং ধাওয়া করেন। পরে আমার মা-ভাই প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। গ্রামের মুরব্বিদের দ্বারস্থ হলে তারা জানান দারোগা হেলাল পুলিশের চাকরি করেন। তিনি অনেক ক্ষমতাবান। তার বিরুদ্ধে গেলে অযথা হয়রানীর শিকার হতে হবে। তাই আমাদের আইনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন।’
রাহেলা বেগম বলেন, ‘গ্রামের কেউ জায়গা জমি নিয়ে বিচার শালিস করতে চাইলে আমার সৎ ভাই হেলালের স্ত্রী সেলিনা বেগম তাদেরকে রেইপ (ধর্ষণ) মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি দেন। ফলে এলাকার পঞ্চায়ের, মেম্বারসহ কেউই তার এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। আমি ২০২৫ সাল থেকে এ বিষয়ে আমরা অসহায় হয়ে অনেকবার শ্রীমঙ্গল থানা, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি বরাবরে লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন নিবেদন করার পরও কোন সুবিচার পাচ্ছি না। আইন যেন আইনের লোকের কথায়ই চলে! সাধারণ মানুষের কথা বিশ্বাস করে না। আমাদের পীঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। আমাদের যাবার আর কোন জায়গা নেই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি মহোদয় বরাবরে আমি সুবিচার চাই।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোছা. রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার সৎ ভাই হেলালের বোন ২০১৬ সালে মার্ডার হয়। এরপর থেকে হেলাল প্রায়ই আমাদের হুমকি দেয় জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার বোনের মার্ডার মামলায় কৌশলে আমাদের ঢুকিয়ে দেবে জেল খাটাবে। আমাদের সৎ ভাই হেলাল আমাদের পিতৃ সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্জিত করেছে। সে পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের উপর অত্যাচার করে চলেছে। তিনদিন আগে আমাদের একটি গাছ সে কেটে ফেলেছে, গতকাল কেটেছে আরও একটি। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হেলালের হাত থেকে উদ্ধারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল বলেন, ‘এ জায়গা নিয়ে পূর্বেও কেইস-মামলা হয়েছে, মার্ডার হয়েছে। জায়গাটির দখলে ছিলেন আমার চাচা ফারুক মিয়া। তিনি মারা গেছেন। আমি কেইস-মামলা গাইয়া চাচা ফারুক মিয়ার কাছ থেকে ৫ শতক জায়গা আমি উদ্ধার করে আনছি। যে ৫ শতক জায়গা আমি মামলা করে আনছি সে জায়গার বৈধ মালিক আমি। বাকি ১০ শতক জায়গার মালিক আমার বাবার চার স্ত্রী, ১৪ ভাই-বোন। তারা আমার বিরুদ্ধে পুলিশের প্রভাব দেখানোর যে অভিযোগ আনছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার মার্ডার মামলার আসামিদের সাথে আমার সৎ বোনেরা যোগসাজসে মার্ডার মাললাটি অন্যভাবে বায়েস্ট করার জন্য, আসামিদের বাঁচানোর জন্য আমার সৎ মা ও বোনেরা সংবাদ সম্মেলন করেছে।
© Deshchitro 2024