নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে 'লিজ' সিন্ডিকেট: ২০ মার্কাতেই ওড়ে দৈনিক ৪ লাখ টাকা! 

রিপন মজুমদার জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী:

​কাগজপত্র ঠিক থাকলেও দিতে হয় ১২০০, জিম্মি জেলার লাখো মানুষ, সব কাগজপত্র নির্ভুল থাকার পরও শুধু একটি গোপন কোড বা 'মার্কা' না থাকায় নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অফিসের ভেতরে নয়, বরং অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরোক্ষ ইন্ধনে বাইরে থেকে পুরো অফিসটি মাসভিত্তিক ‘লিজ’ চালাচ্ছে ২০ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাসপোর্ট অফিসের মেইন রোডের ও আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানে এই ২০ জন সিন্ডিকেট সদস্যের বিশেষ ‘মার্কা’ (গোপন ইমেইল কোড) ব্যবহার করা হয়। দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সেবা প্রত্যাশীরা সরাসরি কাউন্টারে ফাইল জমা দিতে গেলে নানা অজুহাতে তা আটকে দেওয়া হয়। অথচ, ওই নির্দিষ্ট দোকানগুলো থেকে ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ফাইলে ‘মার্কা’ বসিয়ে নিলেই কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুহূর্তেই তা পাস হয়ে যায়।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০টি ‘মার্কা’ মারা ফাইল জমা পড়ে। সেই হিসাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। মাস শেষে এই দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়ায় কোটি টাকায়, যা অফিসের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভাগবাটোয়ারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

​অফিসিয়াল এই প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও ওপেন সিক্রেট দুর্নীতি বন্ধে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024