|
Date: 2026-07-09 11:14:12 |
সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে জামালপুরের বকশীগঞ্জ খয়ের উদ্দিন ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠজুড়ে হাঁটুপানি জমে জলাশয়ে পরিণত হয়। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
গত দুইদিনের বৃষ্টির পানিতে মাদ্রাসা মাঠটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর প্রশাসকের দায়িত্বহীনতায় সামান্য বৃষ্টি হলেও ইসলাম ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষার এই মাদ্রাসা মাঠে পানি জমে জলাশয়ে সৃষ্টি হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও পৌর প্রশাসক আসমা-উল হুসনা পানি নিষ্কাশনে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।
তাঁদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে যেন পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টির পানির সঙ্গে মলমূত্র মিশে পানি দূষিত হওয়ার কারণে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বিস্তারের আশঙ্কা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলে এলেও সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি হওয়ায় মাদ্রাসা মাঠজুড়ে জলজটের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি। আবার কোথাও বেশি। মাদ্রাসা ভবনের বায়েন্দায় পানি উঠেছে। জলজটের কারণে মনে হয়, মাদ্রাসাটির মাঠ যেন একটি জলাশয় কিংবা কোনো লকটি ডোবা।
স্থানীয ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, 'একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে মাদ্রাসা চত্বরে। পানি কমতে দুই তিন দিন সময় লাগে। এত দিনে পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পানি নিষ্কাশনের কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন না পৌর প্রশাসক।'
স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, 'সামান্য বৃষ্টি হলেও মাদ্রাসা চত্বরে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।'
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তরিকুল, মিজান এবং পারভীন আক্তার বলেন, 'সামান্য বৃষ্টি হলেও মাদ্রাসা মাঠে হাঁটু পানি জমে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও পৌর প্রশাসক সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেননি। আমরা চাই, অতিদ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।'
নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক বলেন, 'পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মাঠজুড়ে জলজটের সৃষ্টি হয়। এতে মলমূত্র মিশে পানি দূষিত হওয়ার কারণে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।'
খয়ের উদ্দিন ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের শিক্ষাদান করে যাচ্ছি। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেও মাদ্রাসা মাঠ জলাশয় পরিণত হয়। মাদ্রাসার নিজস্ব অর্থে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার সাধ্য নেই। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ একটু সুনজর দিলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু সেটাই হচ্ছে না।'
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল হুসনা বলেন, 'আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে, সরেজমিন পরিদর্শন করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করতে পারব। প্রকল্প অনুমোদন হলে, ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, 'আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। মাদ্রাসা মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকার বিষয়টি জানি না। আমাকে কেউ জানায়নি। এখন যেহেতু জানলাম, সেহেতু খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।'
© Deshchitro 2024