|
Date: 2026-07-10 19:45:33 |
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপকারভোগীদের জন্য তৈরি হাজার হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড দীর্ঘ বছর ধরে বিতরণ না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় এসব কার্ড বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি কার্ডগুলো উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছেনি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কার্ডগুলোর মধ্যে কিছুতে ২০১৩ এবং কিছুতে ২০১৯ সালের তারিখ উল্লেখ রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে এগুলো অব্যবহৃত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণকারী নারী-পুরুষের জন্য সরকারি ভাতা ও সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর নাম, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসম্বলিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড তৈরি করে উপজেলা পর্যায়ে পাঠায়। নিয়ম অনুযায়ী মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এসব কার্ড উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত মেয়াদে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বহু বছর ধরে এসব কার্ড উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের স্টোররুমে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকারভোগীরা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে হাসপাতাল এলাকায় আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন তালাবদ্ধ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় একটি ভর্তি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, বস্তাটি বিভিন্ন নারী-পুরুষের নাম-ঠিকানাসংবলিত লেমিনেটেড স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ডে পূর্ণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, সেখানে প্রায় ২০ হাজার কার্ড থাকতে পারে।
তারা প্রশ্ন তোলেন, সরকারি অর্থে তৈরি এসব কার্ড কেন বছরের পর বছর উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়নি এবং এতে কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, তিনি ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদান করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্টোররুমে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত অবস্থায় কার্ডগুলো দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার পরিবর্তে ট্যাবের মাধ্যমে সহজে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। তবে কার্ডে ত্রুটি থাকায় সেসময় তা বিতরণ করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, আসন্ন বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সময় মঙ্গলবার সাময়িকভাবে কার্ডগুলো বারান্দায় রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবার স্টোররুমে সংরক্ষণ করা হয়।
© Deshchitro 2024