সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভবনের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এটি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকবে।



শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইসলাম উদ্দিন উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। আলোচনা শেষে দুই পক্ষের কাছ থেকে ভবনের তালার চাবি গ্রহণ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।



জানা গেছে, গত ২ জুলাই নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনে একাংশের জোরপূর্বক প্রবেশ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ এনে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের অপরাংশের সভাপতি সামিউল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।



অভিযোগে বলা হয়, বিগত সরকারের সময় সরকারি বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৌরভ এন্টারপ্রাইজ ভবনটির একতলার প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে দরজা-জানালা, রং, টাইলস ও বাথরুমসহ কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো ভবনটি জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেনি। প্রেসক্লাব ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে শান্তিগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে এর তদারকি করেন এবং একটি প্ল্যাটফর্মের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে সাংবাদিকরা দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত হন। তবে বিভক্ত হলেও সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই ভবনের ওপর উভয় পক্ষই নিজেদের অংশীদারিত্বের দাবি করে আসছেন।


অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি দাবিদার সুহেল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক দাবিদার হোসাইন আহমদের নেতৃত্বে অপর পক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমন্বয় ছাড়াই ভবনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয় এবং ভবনটি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় শান্তিগঞ্জ বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ বিষয়টির সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।



এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য এম কয়ছর আহমদ(এমপি) এর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে। যেহেতু ভবনটি সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন এবং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি, পাশাপাশি কিছু নির্মাণকাজও বাকি রয়েছে, তাই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন এবং দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি প্রশাসনের হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, "ভবনটি সরকারি সম্পত্তি। এর কিছু নির্মাণকাজ এখনও বাকি রয়েছে এবং সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধও চলমান। তাই কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।"
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024