|
Date: 2026-07-14 19:47:24 |
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) ভেতরে ব্যাংকের কর্মচারি পরিচয়ে জনৈক প্রতারক কর্তৃক প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন এক বিকাশ এজেন্ট।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বিকাশ এজেন্ট উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোণ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শহরের হবিগঞ্জ সড়কস্থ ইকো শপ-নামে বিকাশ এজেন্ট মো. রায়হান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "গত জুন মাসে এক ব্যক্তি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে নিজেকে এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার একজন কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রস্তাব দেন। পরে গত ২৮ জুন ওই ব্যক্তির মুঠোফোনে সাড়া দিয়ে আমি এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখায় যাই। সেখানে তাকে ব্যাংকের স্টাফ কক্ষে বসানো হয় এবং ব্যাংকের এক কর্মচারী কামরুল হাসানের মাধ্যমে প্রথমে কফি ও পরে ব্যাংকের সেকেন্ড ম্যানেজার মনজুর মোর্শেদের প্রদত্ত টাকায় বিরিয়ানি এনে আমাকে খাওয়ানো হয়। খাবার খাওয়ার পর তিনি অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ ও অনেকটা অচেতন হয়ে পড়ি। ওই অবস্থায় প্রতারকের দেওয়া ছয়টি বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠাই। প্রতারক আমাকে আশ্বস্ত করেন টাকা পাঠানোর পরপরই ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে সমপরিমাণ নগদ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তি কৌশলে ব্যাংক সটকে পড়ে। এরপর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে তারা ব্যাংকের সুনামের কথা বিবেচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে চেনেন না বলে দাবি করে।"
বিকাশ এজেন্ট রায়হান মিয়া বলেন, "ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি ওই ব্যক্তিকে তারা চেনেন না। আমার প্রশ্ন একজন অপরিচিত ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও স্টাফ কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের সামনে আমাকে রিসিভ করা এবং ভেতরে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।" ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি এবং কার্যত কোন অগ্রগতি হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তার খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
ঘটনার ব্যাপার এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক জয় দীপ বিশ্বাস বলেন, "ঘটনার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি দুই নারী পুরুষের নামে দেড় কোটি টাকার এফডিআর করার একটি প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংকে আসে। এসময় সে কৌশলে স্টাফদের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজেকে ব্যাংকের স্টাফ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে। আমরা ব্যাংকের একজন গ্রাহক হিসেবে তাদের কফি ও বিরিয়ানির আবদার করায় সৌজন্যতা বসত তা পরিবেশন করি। বিকাশ এজেন্ট প্রতারকের দেয়া নাম্বারে দফায় দফায় যে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাঠানোর দাবী করেছেন এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকের কোন স্টাফদের কাছে অবহিত করেনি। প্রতারক কৌশলে ব্যাংক ত্যাগ করার পর বিকাশ এজেন্ট আমাদের অবহিত করার পর প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে।"
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "এ বিষয়ে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।"
© Deshchitro 2024