|
Date: 2026-07-15 22:32:17 |
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় টানা একদিন এক রাতের ভারী বর্ষণ ও তুলসীগঙ্গা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নেট দিয়ে ঘেরা একটি মাছ চাষের জলাশয় তলিয়ে গেছে। এতে জলাশয়ে থাকা প্রায় সব মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি ও ক্ষেতলাল পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা (২৫)।
মাসুদ রানা ক্ষেতলাল পৌর এলাকার তিলাবদুল নামাপাড়া গ্রামের তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
জানা গেছে, উপজেলার বটতলী বাজারের নিচে তুলসীগঙ্গা নদীর কোলঘেঁষা বিলের প্রায় ৫ বিঘা আয়তনের একটি নিচু জলাশয় ৪ থেকে ৫ মাস আগে লিজ নেন মাসুদ রানা। জলাশয়টির দুই পাশে নেট দিয়ে ঘিরে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম উৎপাদন মৌসুম।
সম্প্রতি টানা একদিন এক রাতের ভারী বর্ষণের পাশাপাশি তুলসীগঙ্গা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। নদীর পানি উপচে জলাশয়ে প্রবেশ করলে পুরো মাছ চাষের এলাকা তলিয়ে যায়। পানির প্রবল স্রোতে নেটের ওপর দিয়ে কিংবা নেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জলাশয়ে থাকা অধিকাংশ মাছ ভেসে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি মাসুদ রানা জানান, জলাশয়টিতে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মণ মাছ ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ মণ রুই, ২ মণ মৃগেল, ১৬ মণ সিলভার কার্প, ৩৫ মণ হাঙ্গরি ও ৭ মণ তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। টানা বৃষ্টি ও নদীর পানির চাপে প্রায় সব মাছই ভেসে গেছে।
মাসুদ রানা বলেন, অনেক আশা ও ঋণ করে জলাশয়টি লিজ নিয়েছিলাম। দুই পাশে নেট দিয়ে মাছ চাষ করছিলাম। নদী সংস্কারের পর থেকে কখনো এই জলাশয় ডোবেনি। চারপাশ তুলনামূলক উঁচু থাকায় কোনো ঝুঁকি ছিল না। কিন্তু হঠাৎ তুলসীগঙ্গা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে পুরো জলাশয় ডুবে যায়। এতে আমার প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এত বড় ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব, বুঝতে পারছি না।
তবে সরকারি সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ রানা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে মাছ চাষে সফল হতে পারবেন বলে আশা করেন।
স্থানীয়রা জানান, টানা বর্ষণ ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে মাছ চাষের জলাশয়ও পানির নিচে চলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পানির চাপে জলাশয় তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ মাছ ভেসে গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বাড়ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন জলাশয়ে মাছ চাষে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের নাম, ঠিকানা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকার বা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কোনো সহায়তা বা প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে তা বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© Deshchitro 2024