|
Date: 2026-07-17 21:20:55 |
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত আফিয়া আক্তার খুশি হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মোঃ সাঈদ মেহেদী (৩০)কে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, সারা দেশের ন্যায় র্যাব-৬ও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক এবং চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর এবং সিপিসি-১, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার পারুলিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে ঝিনাইদহ জেলার আলোচিত আফিয়া আক্তার খুশি (২১) হত্যা মামলার মূলহোতা এবং এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামি মোঃ সাঈদ মেহেদীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার ঢেপুখালী পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ মোশলেম গাজীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আফিয়া আক্তার খুশি ও সাঈদ মেহেদীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা গোপনে বিয়ে করে ঝিনাইদহ শহরে বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে সাঈদ মেহেদী নিয়মিত আফিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
গত ১৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ভিকটিমের প্রতিবেশী নাইটগার্ড মোঃ বদর উদ্দিন মোল্যা বাসার দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি আফিয়া আক্তার খুশিকে ঘরের মেঝেতে বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বাড়ির মালিক বেবী করিমকে বিষয়টি জানালে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর নিহত আফিয়ার বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় তার স্বামী সাঈদ মেহেদীকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে দেবহাটার পারুলিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
© Deshchitro 2024