বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের ডরমেটরে ব্যবহৃত সরকারি দুটি আইপিএস ব্যাটারি গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে ব্যাটারি বিক্রি করায় উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ডরমেটরি চালুর শুরু থেকেই সেখানে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি আইপিএস উপজেলা পরিষদ থেকে স্থাপন করা হয়। ওই আইপিএসে ব্যবহৃত দুটি ব্যাটারি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ হিসেবে ডরমেটরিতে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ব্যাটারিগুলো অকার্যকর হয়ে পড়লে ডরমেটরে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেন। ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন কোনো ধরনের নিলাম, টেন্ডার বা উপজেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই নিজ উদ্যোগে ব্যাটারি দুটি বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। অথচ সংশ্লিষ্টদের মতামত ও সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ব্যাটারি দুটি বিক্রি করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জিব চন্দ্র সাহা বলেন,ডরমেটরের দুটি আইপিএস ব্যাটারি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রুমের সামনে দীর্ঘদিন রাখা ছিল। সে মেরামতের কথা বলে নিয়ে গেছে। এখন বিক্রি করছে কি না তা জানিনা।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুটি পুরাতন ব্যাটারি আগের উপজেলা প্রকৌশলীর সময়ের ছিল। পুরাতন হওয়াতে সাত হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির টাকা এলজিইডি অফিসের এক কর্মচারীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ডরমেটরি চালুর শুরু থেকেই উপজেলা পরিষদের দুটি ব্যাটারিসহ  একটি আইপিএস ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যা বর্তমানে অকেজো। এগুলো উপজেলা পরিষদের সরকারি সম্পদ। সরকারি নিয়ম অনুসরণ ছাড়া এগুলো বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন,ব্যাটারির বিষয়ে অভিযোগ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং এই ব্যাটারি বিক্রির বিষয়ে পরিষদের মাসিক সমন্বয়ে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024