রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী একটি ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারী প্রায় চার ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে "কুমিল্লা" নামের একটি ফেরি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার সময় ফেরিটি পদ্মা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে ফেরির নিচতলার ডেক থেকে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী হঠাৎ নদীতে ঝাঁপ দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া প্রান্তের ইনচার্জ এজিএম মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নৌ পুলিশকে অবহিত করেন। পরে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) অলক কুমার মজুমদার ও সঙ্গীয় ফোর্স দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে ফেরিতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ফেরির মাস্টার, ঝালমুড়ি বিক্রেতা মিলন ফকিরসহ উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে তলিয়ে যান।

এ সময় ফেরি থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সূত্রে নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মোসাঃ লাইজু (৩৯)। তার স্বামী মো. ফোরকান মিয়া। বর্তমান ঠিকানা ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদ এবং পৈত্রিক বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামে।

ব্যাগে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার সদৃশ দুই জোড়া কানের দুল, একটি নাকফুল, একটি আংটি, রূপার নুপুর, একটি ব্রেসলেট ও একটি পাথরখচিত আংটি পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া এসব মালামাল উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকার মাধ্যমে আইনানুগভাবে জব্দ করেন এসআই (নিঃ) অলক কুমার মজুমদার।

ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ পুলিশের টহল দল নদীতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে।

এরই মধ্যে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে খবর পাওয়া যায়, নদীতে ভাসমান কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কবিরপুর চর এলাকায় পদ্মার তীরে স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় বাসিন্দা লোকমানের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ারের মাধ্যমে নৌ পুলিশ ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় ও সুস্থ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

নৌ পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই তপন কুমার নন্দী ঘটনাস্থলের গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নৌ পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।

তবে ওই নারী কী কারণে চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি নৌ পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024