নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এখন বইছে ‘সোনালী আঁশ’ পাটের মৌসুমি সুবাতাস। ক্ষেত থেকে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং রোদে শুকানোর কাজে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা। ভালো ফলন এবং বাজারে আশাব্যাঞ্জক দামের প্রত্যাশায় তাদের চোখে-মুখে এখন সুদিনের হাতছানি।

​উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, নদী, নালা, খাল ও জলাশয়গুলোতে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য। আবার কোথাও কোথাও গৃহস্থের উঠানে কিংবা রাস্তার পাশে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ধুম পড়েছে। তীব্র গরম ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম ভুলে কৃষক পরিবারের সব বয়সের সদস্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের গুণগত মানও বেশ চমৎকার। প্রসংগত, গত বছরগুলোর লোকসান পুষিয়ে এবার ভালো লাভে পাট বিক্রি করার স্বপ্নে বুক বাঁধছেন তারা।

​লোহাগড়ার স্থানীয় এক পাটচাষী জানান, "পাট কাটা থেকে শুরু করে শুকানো পর্যন্ত প্রচুর পরিশ্রম ও খরচ হয়। এবার পাটের মান ও ফলন ভালো হওয়ায় আমরা আশা করছি বাজারে ন্যায্য দাম পাবো। সঠিক দাম পেলে আমাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে এবং পেছনের কষ্ট সার্থক হবে।"

​উপজেলার স্থানীয় বাজারগুলোতে ইতিমধ্যে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মানভেদে ভালো পাটের চাহিদা সবসময়ই থাকে। কৃষকরা যদি ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত পান, তবে এ অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালী আঁশ’ চাষে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024