|
Date: 2026-08-01 10:41:33 |
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ফুলতলা এলাকার ‘জামালের কলঘরে’ কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি প্রণোদনার বীজ বিতরণ না করে, চালের সঙ্গে বদলে নিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়েছেন সাংবাদিক মো. আয়ুব মিয়াজী।
সোর্সের মাধমে অভিযোগ উঠেছে, নতুন বীজের বস্তা ভেতরে ও পুরোনো বীজের বস্তা সামনে রেখে রাইস মিলে প্রক্রিয়াজাত করছিল একটি অসাধু চক্র। তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর, আবছার ও জয়নালসহ অনেকেই তাকে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। ছবির প্রথম সারিতে ৩ বস্তার নিচে চিহ্নিত অংশে লাল রঙে প্যাকিং তারিখ ‘২৬ সালের’ লেখাটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যার দিকে। বিষয়টি জানার পরপরই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তা জানানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সাংবাদিক। একপর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমাকে জানানো হলে তিনি জানান, এটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত বিষয়; তাই বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তা মো. আজাদ হোসাইনকে জানাতে হবে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। তবে ততক্ষণে সব আলামত গায়েব করে ফেলে চক্রটি। ঘটনাস্থলে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে রাতে জানান ইউএনও মো. আবদুর রহমান।
এর আগে
তথ্য সংগ্রহের সময়ে
অভিযুক্তরা পেশাগত কাজে
বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক আয়ুব
মিয়াজীকে একাধিকবার মারধর
করার চেষ্টা করেন
বলে অভিযোগ পাওয়া
গেছে। এ সময়
তাকে হুমকি দিয়ে
বলা হয়, “আওয়ামী
লীগ দুই তলা
থেকে ফেলে দিয়েছিল, আমরা
চার তলা থেকে
ফেলে মেরে ফেলব।”
ঘটনাটিকে সাংবাদিকের পেশাগত
দায়িত্ব পালনে প্রত্যক্ষ বাধা
ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল
হিসেবে উল্লেখ করা
হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার বীজ
বিতরণে কোনো অনিয়ম
হয়েছে কি না,
তা খতিয়ে দেখে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু
তদন্তের দাবি জানানো
হয়েছে। একই সঙ্গে
সাংবাদিকের ওপর হামলার
চেষ্টা ও হুমকির
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত
করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর
দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু
মারমা বলেন, “ভিডিও
ও ছবিতে দেখা
গেছে বিজটি ‘ব্রি
ধান-৮৭’ জাতের,
যা বিএডিসি ডিলারের গত
বছরের বীজ। অন্যদিকে কৃষি
বিভাগের চলতি বীজ
সহায়তা প্রোগ্রামে বিতরণের জন্য
নির্ধারিত জাত হলো
‘বিআর-২২’ ও
‘বিআর-২৩’।”
তাই এ বিষয়ে
বিএডিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে
কথা বলার পরামর্শ দেন
তিনি।
© Deshchitro 2024