মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

শ্রাবণ যেন প্রকৃতির এক খেয়ালি ঋতু। তার মনের কথা বোঝা বড় কঠিন। কখনো আকাশজুড়ে কালো মেঘ, ঝুম বৃষ্টির শব্দে চারপাশ ভিজে যায়। আবার একটু পরেই মেঘ সরে গিয়ে তীব্র রোদের হাসি। মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই বুঝি নিজের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে।

সকালটা শুরু হয় ভ্যাপসা গরমে। বাতাসে যেন ভারী এক অস্বস্তি, শরীর ঘামে ভিজে যায়, মনে হয় একটু স্বস্তির বাতাসের জন্য কত অপেক্ষা! হঠাৎ দূরের আকাশে জমে ওঠে মেঘ। বাতাস বদলে যায়। তারপর টুপটাপ বৃষ্টি আর সেই বৃষ্টিই যেন মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীকে শীতল করে দেয়।

বৃষ্টির পরের ঠান্ডা বাতাসে থাকে অন্যরকম এক প্রশান্তি। ভেজা মাটির গন্ধ, পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটা, দূরের মেঘের গর্জন সব মিলিয়ে মনটা কেমন যেন নরম হয়ে আসে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়।

কিন্তু শ্রাবণ বেশিক্ষণ একরকম থাকে না। কিছুক্ষণ পর আবার রোদ। ভেজা রাস্তায় রোদের ঝিলিক, গাছের পাতায় পানির ফোঁটার ঝলমলে আলো প্রকৃতি তখন নতুন সাজে ধরা দেয়। গরম আর ঠান্ডার এই হঠাৎ বদলে যাওয়া যেন মানুষের অনুভূতির সঙ্গেও কোথাও মিলে যায়।

জীবনও তো এমনই। কখনো রোদের মতো উজ্জ্বল, কখনো বৃষ্টির মতো বিষণ্ন। কখনো ভ্যাপসা অস্বস্তি, আবার কখনো হঠাৎ নেমে আসে প্রশান্তির শীতলতা। সবকিছু সবসময় একই রকম থাকে না এটাই জীবনের সৌন্দর্য।

শ্রাবণের বৃষ্টি তাই শুধু জল হয়ে নামে না, সঙ্গে নিয়ে আসে স্মৃতি, অনুভূতি আর এক অদ্ভুত ভালো লাগা। আর রোদের ফাঁকে বৃষ্টির সেই লুকোচুরি মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির মতো জীবনও পরিবর্তনশীল। কখনো অপেক্ষা করতে হয় বৃষ্টির জন্য, আবার কখনো বৃষ্টির পর রোদের জন্য।

শ্রাবণের এই অদ্ভুত আবহাওয়া তাই শুধু ঋতুর খেলা নয়, এটি অনুভূতিরও খেলা। ভ্যাপসা গরম থেকে হঠাৎ শীতলতা প্রকৃতি যেন প্রতিদিন নীরবে বলে যায়, পরিবর্তনই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সত্য।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024