২০২৬ সালে এসএসসি (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এইবার পরীক্ষাই অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। তার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ১১ লাখ শিক্ষার্খী। এইবার জিপিএ ৫ পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থী। এই ফলাফল আমার মতে একটি মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে যারা এইবার জিপিএ ৫ পান নি, তাদের মন-মানসিকতা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে, যা শব্দ বা লেখায় প্রকাশ করা যায় না। এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যাচ্ছে। 


পরীক্ষার আগে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের প্রত্যাশা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় এই চাপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করে। বিশেষ করে পরীক্ষার ফলাফলকে জীবনের একমাত্র সফলতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হলে মানসিক চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।


শিক্ষক আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচিত শুধু জিপিএ ৫ বা মেধাবীদেরকে সংবর্ধনা নয়, যারা জিপিএ ৫ পাই নি বা পরীক্ষা ফেল করছে তাকে আমরা আগ্রহ আর ভরসা দিবো। তাদেরকে বলবো যে, "জীবন থেমে নেই, ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে সক্ষম করবা।" এই রকম ধরণের কথাবার্তা বলা দরকার। তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষকেরা কোনোদিন এই কাজ করে না বলে। শিক্ষার্থীরা মন মতো আগ্রহের সাথে ভবিষ্যতে পড়াশুনা করতে পারে না এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে যায়। 


যাদের সন্তান জিপিএ ৫ পাই নি বা ফেল করেছে, তাদের অভিভাবকদেরকে বলছি আপনাদের সন্তানদের উপর কোনো মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করবেন না। কারণ তাদের মন মানসিকতা ভালো নয়, এখন যদি আপনার তাদের উপর অত্যাচার বা নির্যাতন করেন, তাহলে তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে এবং আত্নহত্যা অথবা অপরাধমূলক কার্যক্রম লিপ্ত থাকবে। তাদেরকে আগ্রহ দিবেন এবং আশা দিবেন। তাদের বুঝানো চেষ্টা করবেন যেন সে এই মানসিক আঘাত থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত অভিভাবক সন্তানকে এমন মানসিক নির্যাতন দেয়, যে সন্তান এক রকম মানসিক যন্ত্রণা মধ্যে দিয়ে চলে যায়। 


আমাদের সমাজের মুরুব্বিদের কাজ হচ্ছে অহেতুক অন্য মানুষের সমস্যা নিয়ে ঘাটাঘাটি করা। তারা সান্ত্বনা না দিয়ে ঐ শিক্ষার্থীদেরকে কটুক্তি মূলক কথা বলে। এতে শিক্ষার্থী সমাজের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য কমে যায়। সমাজে মুরুব্বিদেরকে বলছি বিশেষ করে বয়স্ক মহিলাদেরকে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে কোনো ধরণের আলোচনা করবেন না। এতে শিক্ষার্থীদের মনোবল নষ্ট হয়ে যায়। যেমন: "রামিসা ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা জিপিএ ৫ পাই নি। মনোয়ার আলী নামে এক শিক্ষিত ভদ্র লোক। সে শুনলো রামিসা জিপিএ ৫ পাই নি, তখন এই নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে আলোচনা করা শুরু করলো। এমনভাবে আলোচনা করলো এটা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লো। পরে রামিসা যখন রাস্তা হাঁটে বা বাজারে যায়, সেখানে এলাকার লোকজন ওকে এমন নজরে তাকায় যে রামিসা ভয় পেয়ে যায়। পরবর্তীতে রামিসা পড়ালেখার প্রতি মনোবল নষ্ট হয়ে যায়।" দয়া করে আপনারা এই কাজ করবেন না। 



পরিশেষে বলা যায়, এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও এটি পুরো জীবন নয়। আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে।



এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন 

সেশন: ২০২০-২১

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024