হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে "ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মাণাধীন নদী-বন্দর প্রকল্পে" নিন্মমানের ও খারাপ পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্প এলাকায় এসব পাথর পড়ে থাকায় তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণত মানুষের মাঝে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২ই আগস্ট) বিকেল বেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নদী-বন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও নদীর তীর সংরক্ষণের কাজের এলাকায় অনেক পরিমাণ পাথর জমা করে রাখা হয়েছেন। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, এসব পাথরের কিছু অংশ ময়লা-আবর্জনাযুক্ত, মরা ও খারাপমানের। তাদের দাবি, গত (৮ই আগস্ট) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় "সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, সুরাইয়া জেরিন রনি" খারাপ পাথর জমা থাকা দেখতে পান। এ সময় "জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক" উপস্থিত ছিলেন। পাথরের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকল্প পরিচালক এ গুলো খারাপ বলে জানান এবং তারাতাড়ি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের "সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি"ও প্রকল্প এলাকায় রাখা খারাপ পাথর গুলো সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খারাপ পাথর গুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিন পরও পাথর গুলো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং এই সব খারাপ পাথর গুলো, প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। চিলমারী নদী-বন্দর প্রকল্পটি "বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ" বাস্তবায়ন করছেন বলে জানাযায়। প্রকল্পের আওতায় "চিলমারী উপজেলার রমনা, জোড়গাছ, নয়ার হাট ও রৌমারী, রাজিবপুর এলাকার নদী-বন্দর অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছেন। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল- ২৩৫কোটি ৫৯লাখ টাকা। পরে তা আবার সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছেন। ৩৩৫কোটি ৫৯লাখ টাকা। বর্তমান বাস্তবায়ন-কাল "২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর" মাস পর্যন্ত। প্রকল্পটির কাজ করা নিয়ে, এর আগেও ধীর গতির কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালে একটি সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৮শতাংশ বলে জানিয়ে ছিলেল। স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম, রেজাউল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুম ও সুজন, শহিদুলসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন কাজের অনিয়ম এবং ধীরগতির কারণে তারা উদ্বিগ্ন হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বাস্ত-বায়ন হবে কি না, তা নিয়েও তাদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছেন। চিলমারী নদী-বন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় বলেন, নির্মাণ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, পাথর গুলো খারাপ। এ গুলো ওখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে, বিষয়টি তিনি দেখছেন বলে জানান। চিলমারী নদী-বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, পাথর গুলো দীর্ঘদিন থেকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এবং কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ গুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। গত (৮ই আগস্ট) ২৪ঘণ্টার মধ্যে পাথর গুলো সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমন দাবির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, "২৪ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি; সরিয়ে নেওয়া হবে"। এদিকে প্রকল্পের কাজে খারাপ মানে পাথর ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি, প্রকল্পের ধীরগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024