|
Date: 2023-02-15 11:32:43 |
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক সদস্যদের চাঁদার হিসাব, মজুরির ১৯ মাসের বকেয়া পাওনা, নতুন চুক্তি এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি। বাচাশ্রই এর আহবায়ক কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম আহমেদ।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় শহরের কলেজ রোডস্থ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদোত্তীর্ণ অবৈধ কমিটি আজ প্রায় ২৫ মাস গত হয়ে গেলেও মালিক পক্ষের সাথে চুক্তি ও ইউনিয়নের নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ চা শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদের তোপে পড়ে সরকারের উপর নিজেদের দায় চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চা শ্রমিকদের সদস্য চাঁদার হিসাব নিকাশ, মজুরীর ১৯ মাসের বকেয়া পাওনা, নতুন চুক্তি, ইউনিয়নের নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে সাধারন চা শ্রমিকরা লেবার হাউসে অবস্থানরত মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ কমিটির সভাপতি মাখন লাল কর্মকারের নিকট গত ৮ জানুয়ারি ২০২৩ ইংরেজি তারিখে এক আল্টিমেটাম পত্র হাতে পেশ করেন। কমিটির পক্ষে নিপেন পাল স্বাক্ষরিত ১৪ জানুয়ারি এক পত্রে আল্টিমেটাম এর সুস্পষ্ট জবাব না দিয়ে প্রকারান্তরে ব্যর্থতার দায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আমরা এ জবাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি।
গত ২৫ জানুয়ারি তারিখে গঠনতন্ত্রের একটি সংশোধিত কপি আমাদের হস্তগত হয়েছে। অবৈধ কমিটির কেবলমাত্র দুইজন তথা মাখন লাল কর্মকার ও নিপেন পাল কর্তৃক সংশোধিত ও স্বাক্ষরিত গঠনতন্ত্রটি শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক ৮ জানুয়ারি ইংরেজি তারিখে অনুমোদিত আছে। গঠনতন্ত্রে শ্রমিকদের নিকট থেকে আরো কিভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা যায় তা উল্লেখ আছে এবং শ্রমিকদের ইউনিয়ন পরিচালনায় শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ আছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সম্মানিত মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মহলে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৩ ইংরেজি তারিখে ইউনিয়নের সদস্য চাঁদার হিসাব নিকাশ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন, গঠনতন্ত্রের সংশোধন, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের মতামত সম্বলিত তিন পাতার এক পত্র প্রেরণ করা হয়েছ। পত্রে চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র সংশোধন, চাঁদা আদায়, বকেয়া মজুরিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। পত্র মোতাবেক আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইংরেজি তারিখে শ্রীমঙ্গলে এক চা শ্রমিক প্রতিনিধি সমাবেশ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত তা স্থগিত করে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইংরেজি তারিখে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম আহমেদ লিখিত বক্তব্যে লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনায় শ্রম অধিদপ্তরের এহেন ভূমিকা, শ্রম অধিদপ্তরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন শ্রম অধিদপ্তর ও মেয়াদোত্তীর্ণ অবৈধ কমিটির সাথে শ্রম অধিদপ্তরের এতো পেয়ার মহব্বতের কারণ কিসের?
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি পরিচালনা হচ্ছে এবং আগামী ২ মাসের মধ্যে ইউনিয়নের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক বিজয় বুনার্জি, সদস্য মোঃ সেলিম আহমেদ, পরিমল সিং বাড়ইক, গীতা রানী কানু, রামদয়াল গোয়ালা, সুকমার রাজভর এবং জগত তাঁতী।
© Deshchitro 2024