|
Date: 2026-09-02 19:08:44 |
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী না থাকায় নিরাপত্তা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৩ সালে প্রথম ধাপে ৩০ জন দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে আর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে একজন চাকুরি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লোকবল সংকটের কারণে দুজনকে ডেপুটেশনে আনা হয়। সম্প্রতি উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দরজার তালা কেটে চুরি, চরজিতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাউটার চুরি, বিল রাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রিল কাটার চেষ্টা ও ধামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়ার কারণে শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাড়ির কাছে যেসব শিক্ষক রয়েছেন তারা অনেকেই রাতের বেলায় ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়ের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে মিড ডে মিলের খাবার, সাউন্ড বক্স, রাউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়ার সরঞ্জাম, আইপিএস ও ইন্টার এ্যাকটিভ ফ্লাট প্যানেল ৭৫ ইঞ্চি টিভি রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। যেসব প্রতিষ্ঠান নিরিবিলি জায়গায় অবস্থিত সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে আতংক বেশি বলে জানান সহকারী শিক্ষকরা।
নৈশ প্রহরী বাবুল মিয়া (৩৮) ও আবু সাঈদ মো. সেলিম জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরী রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে চুরি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বাচ্চাদের মাঝে ঝগড়া নিয়ন্ত্রণে সহজ হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত মিড ডে মিলের খাবার সুন্দর ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
৩১ নং ছোট রাঘবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হজরত আলী জানান, আমরা স্কুলে রক্ষিত মালামাল নিয়ে আতংকে থাকি। রাতের বেলায় কখন মালামাল চুরি হয়ে যায় বলা মুশকিল। শুধু মালামাল পাহারা নয় উপজেলা অফিসে যেকোন প্রয়োজনে তাদেরকে পাঠানো সম্ভব। লোক না থাকায় প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারী শিক্ষককে ক্লাস ফেলে রেখে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। এই পদে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক ধরণের মালামাল রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বলা যায় রাতের বেলায় এসব মালামাল প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে কিছু প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তখনকার সময় বিভিন্ন সমস্যার কারণে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আপাতত এই পদে নিয়োগ দেওয়া সারা দেশেই বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসলেই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
© Deshchitro 2024