|
Date: 2026-09-07 11:52:11 |
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ডলুখাল বালুমহালকে কেন্দ্র করে বৈধ ইজারার আড়ালে অনুমোদনহীন স্থানে বালু ডাম্পিং ও অবৈধ ব্যবসার একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি ও চূড়ান্ত প্রশাসনিক আদেশের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী ও সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বালু ডাম্পিং করে দেদারসে বিক্রি করছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘শিরোপা বিল্ডার্স’—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা যায়,
১৪৩৩ বাংলা
সনের জন্য
চন্দনাইশ উপজেলার
ডলুখাল বালুমহালটি
ইজারা পায়
কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মুজিবুর
রহমানের মালিকানাধীন
প্রতিষ্ঠান ‘শিরোপা বিল্ডার্স’। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা
থেকে গত
২৭ এপ্রিল
২০২৬ তারিখে
প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই ইজারাদার সরকারি
নিয়মের তোয়াক্কা
না করে
বিভিন্ন উপজেলায়
অবৈধভাবে বালু
মজুদ বা
ডাম্পিং শুরু
করে বলে
অভিযোগ রয়েছে।
ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা
যায়, শিরোপা
বিল্ডার্স গত ১৭ আগস্ট ২০২৬
তারিখে চন্দনাইশ
থেকে উত্তোলিত
বালু সাতকানিয়ার
দোহাজারী সেতুর
দক্ষিণ ও
পূর্বাংশ, কাঠগড় মৌজা এবং আনোয়ারার
তৈলারদ্বীপ সেতুর দক্ষিণ এলাকাসহ প্রায়
নয়টি স্থানে
অস্থায়ী ডাম্পিং
পয়েন্ট স্থাপনের
অনুমতি চেয়ে
জেলা প্রশাসকের
কাছে আবেদন
করে।
জেলা প্রশাসন
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতকানিয়া ও আনোয়ারা
উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন
দেওয়ার নির্দেশ
দেয়।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা
গেছে, উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তাদের
পক্ষ থেকে
তদন্ত প্রতিবেদন
জমা দেওয়া
কিংবা জেলা
প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগেই
দোহাজারী সেতুর
দক্ষিণ-পূর্বাংশের
কালিয়াইশ এলাকায়
বিশাল এলাকাজুড়ে
বালু ডাম্পিং
করা হয়েছে। এমনকি সেখানে ‘আদেশক্রমে জেলা
প্রশাসক, চট্টগ্রাম’
উল্লেখ করে
একটি সাইনবোর্ড
টানিয়ে বালু
বিক্রি করা
হচ্ছে বলে
অভিযোগ পাওয়া
গেছে।
সরেজমিনে দুপুর ১২টা
ও বিকেল
৩টার দিকে
নদী থেকে বালু
তুলতে দেখা
যায়।
স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের
ওপর নির্মিত
সাঙ্গু সেতুর
পশ্চিম পাশ
থেকে বালু তুলে গত জুলাই মাস থেকেই
এই ব্যবসা
পরিচালিত হয়ে
আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর
এত কাছাকাছি
এবং অনুমোদনহীন
ডাম্পিং পয়েন্টে
প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে বালুর
ব্যবসা পরিচালনা
করা হলে
একদিকে সরকার
বিপুল রাজস্ব
হারাতে পারে,
অন্যদিকে সেতু
ও নদীতীরবর্তী
এলাকা ঝুঁকির
মুখে পড়তে
পারে।
জেলা প্রশাসনের
নাম ব্যবহার
করে অনুমোদনহীন
স্থানে সরকার অনুমোদিত সাইনবোর্ড টানানোকে
প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। বিষয়টি তদন্ত
করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেওয়া
উচিত বলেও
দাবি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,
বোট থেকে
বালু উত্তোলন
করতে দেখা
যায় না। বড় পাইপ ব্যবহার করে
রাত-দিন
নদী থেকে
বালু তোলার
সময় মেশিনের
শব্দ শোনা
যায়।
তবে সেখানে
সরকারি অনুমোদন
রয়েছে—এমন
দাবি করায়
স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে পারছেন না
বলেও জানান।
এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের সদস্য কালিয়াইশের জাহাঙ্গীর আলম
মেম্বার জানান,
নদীতে পানি
কম থাকায়
জোয়ার-ভাটার
সময় ৪
হাজার ঘনফুট
ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বোট দিয়ে
গরীঙ্গাহাট থেকে বালু আনা হচ্ছে। দুই-তিন দফায় বালু
নিয়ে আসা
হয়।
মাগরিবের জোয়ারের
সময় বোট
এলে বালু
তুলতে তুলতে
রাত হয়ে
যায়।
আবার সকালের
জোয়ারের সময়
বোট এলে
দিনের বেলায়
বালু তোলা
হয়।
তবে ডাম্পিং স্টেশনের
চূড়ান্ত অনুমোদনের
কাগজপত্র শহরে
রেখে আসায়
তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারছেন না বলে স্বীকার
করেন তিনি। দুই-তিন দিন পর
কাগজপত্র দেখাতে
পারবেন বলেও
জানান জাহাঙ্গীর
আলম।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ
উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন,
“ড্রেজার মেশিন
চালু থাকা
অবস্থায় আমাদের
খবর দিলে
আমরা এসে
ব্যবস্থা গ্রহণ
করব।”
© Deshchitro 2024