গোয়ালন্দে পাচারকালে সরকারি সার আটকের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স এর বিরুদ্ধে বিসিআইসি সার পাচার কালে জনগণের হাতে ১৩ বস্তা বিভিন্ন সারসহ চালক ও ক্রেতাকে আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ওই সার ও পরিবহনকারী চালককে সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড়িয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ফরিদপুর জেলার আনন্দ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মন্ডল ট্রেডার্সের দোকান হতে এলাকাটি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে জানান, তারা উজানচর ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা। ইউনিয়নের শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় সার বিক্রি করা হয়। আজকে আমরা এ রকম ১৫ বস্তা সারসহ বহনকারী গাড়ি আটক করি। অথচ ইতিপূর্বে সারের জন্য ওই দোকানে গেলে সার নেই বলে তাদের বলা হয়। এদিকে আটককৃত সার বিভিন্নভাবে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন কয়েকজন। এ সময় সেখানে উপস্হিত একজন সাংবাদিক উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান তার দফতরের লোকজন দ্রুতই ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, আপনি ওখানেই অপেক্ষা করেন। ইতিমধ্যে একটা সময় সেখানে দেশীয় অস্ত্র সহ হাজির হন নাজমুল নামের এক ব্যাক্তি। তিনি সার আটককারীদেরকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকের উপরও চড়াও হন ওই অস্ত্রধারী। এক পর্যায়ে তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং তার কোমরে থাকা একটি রিভলভার দৃশ্যমান হয়। এ-সময় তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়ি সেখান থেকে নিয়ে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন জানান, নাজমুল উপজেলা জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়া'র ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বেশ কয়েকবছর তিনি বিদেশে কাটিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আতংকিত হয়ে পড়েছেন। মন্ডল ট্রেডার্স এর মালিক মাসুদ মন্ডল নিজেও নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। অভিযোগের বিষয়ে ডিলার মাসুদ মন্ডল বলেন, আনন্দ বাজার এলাকাটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে এবং তার দোকান হতে অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অত দূরের লোকজন কখনোই তার দোকানে আসে না। মূলত কিছুলোক আমার লাইসেন্স বাতিল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমার দোকানে এসে আমার সারের হিসাব ঠিকঠাক দেখতে পান। ইতিপূর্বেও আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু তদন্তে সব মিথ্যা প্রমানিত হয়। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, অভিযোগ শুনেই তিনি তাৎক্ষণিক মাসুদ মন্ডলের দোকানে তদন্তে গিয়েছিলেন। আপাতত সেখানে সারের হিসেবে কোন গড়মিল পাইনি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জোর করে সার ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024