|
Date: 2026-09-12 11:58:18 |
মাছে ভাতে বাঙ্গালী এ প্রবাদটা এখন হালকা হয়ে আসছে। বর্ষাকাল বা তার পরবর্তী কয়েকমাস বাজারে যে পরিমাণে দেশি মাছের দেখা মিলতো এখন তার সিকি ভাগও দেখা যায় না। প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং নির্বিচারে মা রেণু পোনা শিকারের কারণে দেশি মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে। এছাড়া রয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং খরা বা অতিরিক্ত গরমে মুক্ত জলাশয়ে পানি না আসা বা দেরিতে আসায় মাছের প্রজনন হার কমছে। বর্ষা মৌসুমে রয়েছে কারেন্ট বা দুয়ারি জালের মতো অবৈধ জালের মাধ্যমে রেণু পোনা নিধন। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এবং তার শাখা কাঁচামাটিয়া নদী এবং বেশ কয়েকটি বিলের কারণে কমবেশি সারা বছরই দেশি মাছের স্বাদ নিতে পারতো উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নদী খাল বা বিল পাড়ের মানুষ সারা বছরই তাদের পারিবারের মাছের চাহিদার কিছুটা অংশ এসব জায়গা থেকেই মিটাতে পারত। এমনকি এসব জায়গা থেকে মাছ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে পরিবারের অন্যান্য খাতে যোগান দিতে পারত। বয়স্ক মানুষের কাছে এগুলি এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২টি নদী, ৩৩টি বিল ও ১৫টি খাল রয়েছে। এসব স্থান থেকে গত বছর প্রায় ৯৫২ মে.টন মাছ আহরিত হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার ২১৪ মে.টন মাছ চাষ হয়েছে উপজেলার মালিকানাধীন পুকুরে। উপজেলায় বছরে চাহিদা রয়েছে ৯ হাজার ৫৯৯ মে. টন মাছের। সে হিসেবে সব মিলিয়ে উপজেলায় মাছের উদ্বৃত্ত থাকে।
দত্তপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম (৭০) জানান, আমরা অনেক মাছ নদীতে থেকে ধরতে দেখেছি এবং উপজেলার বিভিন্ন বিল থেকে দেশি মাছ বাজারে আসতো এখন এগুলো চোখেই দেখা যায় না। যা আসে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। খোলা জলাশয়কে যথাযথ সংরক্ষণ করে দেশি মাছের যোগান বাড়ানোর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানাই।
ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে মাছ বিক্রেতা মন্টু মিয়া (৬৫) বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এ বাজারে মাছ বিক্রি করছি। বিগত কয়েক বছর ধরে বাজারে মাছ ছাড়া দেশি মাছ বাজারেই আসে না। যতটুকু আসে তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম তাই দামও বেশি হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান জানান, দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে প্রদর্শনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মাঠ দিবস, বিল নার্সারি স্থাপন, অভয়াশ্রম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও দেশি মাছ রক্ষায় অবৈধ জাল দিয়ে খোলা জলাশয়ে মাছ ধরার প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ জাল ধ্বংস করা হচ্ছে নিয়মিত।
© Deshchitro 2024