|
Date: 2026-09-14 00:00:55 |
নোয়াখালীর সেনবাগে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন গোল্ড মেডেল ভিত্তিক মেধা উৎসব ২০২৬’। এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তাদের মেধার স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো ফলাফলকে সম্মান জানানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সেনবাগ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। এছাড়া এ-প্লাস প্রাপ্ত ৭৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা, সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেধা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদ্য সাবেক সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম, সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার, নারী উদ্যোক্তা তামান্না ফারুক থিমা, সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক সৈয়দা শারমিন আক্তারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের মেধা উৎসবে ছাত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় নম্বর অর্জন করে গোল্ড মেডেল লাভ করেন শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ শাহেদুল আলম। তিনি মোট ১১৬১ নম্বর পেয়ে ৯২ দশমিক ৮৮ শতাংশ গড় নম্বর অর্জন করেন।
অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় নম্বর অর্জন করে গোল্ড মেডেল লাভ করেন তেমুহনী আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা ফয়সাল আয়েশা। তিনি মোট ১১৩৮ নম্বর পেয়ে ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ গড় নম্বর অর্জন করেন।
শুধু ব্যক্তিগত মেধার স্বীকৃতিই নয়, এবারের মেধা উৎসবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক ফলাফলকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ১১ জন শিক্ষার্থী এ-প্লাস অর্জন করায় সেনবাগ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ এ-প্লাস অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একইভাবে ৮০ শতাংশ পাশের হার অর্জন করায় ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জড়িয়ে থাকে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামাজিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হলে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা পায়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি এলাকার শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মেধাবৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা, ‘লাখপতি প্রকল্প’, ‘স্বপ্নের বাজার’, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সহায়তা এবং প্রযুক্তি ও রোবটিক্সভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ‘মেধা উৎসব’ ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা-কেন্দ্রিক আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
আয়োজকদের মতে, মেধাবীদের খুঁজে বের করা, তাদের সাফল্যকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগানোই মেধা উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্মাননার আওতায় এনে সেনবাগের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় শিক্ষা ও মেধার এক মিলনমেলায়।
গত বছরের আয়োজনের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এ মেধা উৎসবকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও মেধাকে উৎসাহিত করা, সাফল্যকে মর্যাদা দেওয়া এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় রয়েছে।
© Deshchitro 2024