|
Date: 2026-09-15 10:43:45 |
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় বইছে নির্বাচনী আমেজ। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন জোরেসোরে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদেই রয়েছে একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে অনেক নতুনদের।
তবে নতুন প্রার্থীরা বর্তমানে এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোটারদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকায় নানা অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত দান-অনুদান দিয়ে নতুনরা হচ্ছেন পরিচিত। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী আবার ভিন্ন কৌশলে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।এবং নির্বাচনী এলাকাতেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা দোয়া চেয়ে অথবা শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার টাঙিয়েছেন। প্রচারণার ক্ষেত্রে পুরাতনদের চেয়ে এগিয়ে নতুনরা। পাড়া-মহল্লা আর চায়ের দোকানগুলোতেও এখন আলোচনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, কার ভোট ব্যাংক কোথায়, হিসাব নিকাশ চলছে এসব নিয়ে।
এদিকে, কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানরা ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে পুনরায় জয়লাভ করবে বলে জানান ভোটারেরা।
চায়ের কাপে ভোটের আমেজ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বিধায় তার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে । নিজ নিজ এলাকার প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের রয়েছে নানান হিসাব-নিকাশ। আর এসব আলোচনার ঝড় বইছে এখন সকল চা দোকানে।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোন চা দোকান নেই যেখানে ৮-১০জন লোকের উপস্থিথিতেই প্রতিটি দোকানেই একই আলোচনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
কোন একজন ভোটার কোন এক প্রার্থীর পক্ষে কথা বলে তার সাফাই গাইছেন আবার অপর একজন অন্য প্রার্থীর ভূয়সী প্রশংসার ফুল ঝড়াচ্ছেন। চা দোকান গুলোতে চা, সিগারেট পান করতে করতে অনেকেই নির্দ্বিধায় কোন একটি প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।আবার কেউবা চুপ-চাপ থেকে চা, সিগারেট পান করে সাধারণ মানুষের কথা কিনে নিয়ে প্রার্থীদের কাছে বিক্রি করছেন। কোন কোন ভোটার নিজের ইউনিয়নের গন্ডি পেরিয়ে অন্যান্য ইউনিয়ন ঘুরে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। খোঁজ নিচ্ছেন কোন প্রার্থীর কি অবস্থা। গরম চায়ে চুমুকের সাথে আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম হয়ে উঠছে প্রতিটি চা দোকান। কেউ বা বিকাল থেকে এক বসাতেই পার করছেন রাত ১০টা। আবার কেউবা এক দোকান থেকে অন্য দোকান।
সরজমিনে উপজেলার বাজারের বিভিন্ন চা দোকানে গিয়ে দেখা যায়,, চা সেবীদের আড্ডা। ধুরুং বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি চা দোকানে অন্তত ১০-১২জন মধ্য বয়সী ভোটার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। দোকানি একের পর এক চা তৈরি করে তাদের মাঝে সরবরাহ করছেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার টানেই এগিয়ে আছে স্ব স্ব প্রার্থীরা।
এর আগে উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের চৌমহনি বাজারে একটি চায়ের দোকানে দেখা যায় ভোটাররা নির্বাচনী আলোচনায় ব্যস্ত। গ্রামের এমন কোন চা দোকান নেই যেখানে মানুষের ভীড় নেই।
উপজেলার উত্তরধুরুং ইউনিয়নের গ্রামের একটি চা দোকানে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত১০- ১২জন ওই চা দোকানে বসা। তাদের মধ্যে নির্বাচনী আলোচনা চলছে তুমুল। প্রায় আধা ঘন্টা ওই চা দোকানে অবস্থান করে দেখা গেছে এরই মধ্যে কেউবা ২/৩টি চা পান শেষ করেছেন।এছাড়া রবিবার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায় সাধারণ ভোটাররা।
চায়ের দোকানই ভোট বিশ্লেষণকেন্দ্র, নির্বাচনী আমেজ অলি-গলিতে
উপজেলার বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চায়ের দোকানই এখন ‘পলিটিক্যাল ডেস্কে’ পরিণত হয়েছে। নির্বাচনি আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ।
বড়ঘোপ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “পুরো উপজেলায় এখন ভোট আর রাজনৈতিক আলোচনা। আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ।
আবিদ আলী নামের এক তরুণ ভোটার বলেন, “ভোটের মাঠে এবার খেলা জমবে। আগের মতো কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। আমরা সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি সরকার নির্দলীয়ভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ আবার ভোটমুখী হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপে, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপে এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন(ইসি)।
© Deshchitro 2024