|
Date: 2026-09-16 20:52:32 |
শেরপুর সদর উপজেলার চরসাপমারী গ্রামে কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম (৩৬) নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন (২০) নামে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম তিন সন্তানের জননী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে কোলে থাকা ছোট শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন রোকেয়া। এ সময় তাঁর ভাসুর মওলা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন একটি ধারালো দা হাতে সেখানে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি রোকেয়ার ওপর হামলা চালান।
এ সময় আরিফ ধারালো দা দিয়ে রোকেয়ার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার পর রক্তমাখা পোশাক পরেই আরিফ নিজের ঘরে চলে যান। পরে গোসল করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিজ বাড়ি থেকে আরিফকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তাঁর চাচি রোকেয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে পরনের রক্তমাখা ফুলপ্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রোকেয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
© Deshchitro 2024