|
Date: 2026-09-17 18:50:39 |
গোয়ালন্দে ৪০ বছরের শিক্ষকতা শেষে আব্বাস আলী মোল্লার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর বালিয়াকান্দি সরকারি বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছিল এক আবেগঘন বিকেল। দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তিতে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী মোল্লাকে বিদায় জানাতে একত্রিত হন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার অসংখ্য মানুষ। বিদায়ের ক্ষণে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার কথা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে প্রাইভেটকারের মাধ্যমে তাকে নিজ বাড়ি ছোট ভাকলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার সংলগ্ন কদমতলী গ্রামে
পৌঁছে দেওয়া হয়। শিক্ষককে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী সম্মান ও ভালোবাসার দৃশ্য এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আব্বাস আলী মোল্লা ৫ জানুয়ারি ১৯৮৭ সালে প্রথমে চর পাঁচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসবে যোগদান করেন। পরে তিনি ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে চর বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৯ বছর ৮ মাস ৬দিন দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ১০ সেপ্টেম্বর তার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল। বৈরি আবহাওয়া কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আব্বাস আলী মোল্লা এই বিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষা অফিসার আঃ কাদের, নাসরিন নাহার, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ বাবর আলি সহ অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রমুখ।
বিদায়ী শিক্ষক আব্বাস আলী মোল্লা বলেন, জীবনের ৪০টি বছর আমি শিক্ষার্থীদের মাঝে কাটিয়েছি। আজ যে সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। তারা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
© Deshchitro 2024