‎মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নবনির্বাচিত সিবিএ নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। এ সময় বন্দরের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়।


‎বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এঁর কার্যালয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিবিএ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নবনির্বাচিত নেতৃত্ব এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন), পরিচালক (প্রশাসন), প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স), পরিচালক (বোর্ড), ঊর্ধ্বতন উপ-ব্যবস্থাপক এবং উপপরিচালক (জনসংযোগ)। মূলত নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্যই এই আনুষ্ঠানিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল যা বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে এক নতুন মেলবন্ধনের সূচনা করেছে।


‎সাক্ষাৎ চলাকালীন সময়ে বন্দর পরিচালনার বিভিন্ন জটিল দিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোর নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এ সময় সিবিএ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা শ্রমিক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন বঞ্চনা এবং যৌক্তিক দাবি-দাওয়াগুলো চেয়ারম্যান মহোদয়ের সামনে উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং তাদের নায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, শ্রমিক নেতাদের এই দাবিগুলো শোনার পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কর্মচারীদের সকল যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এই ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক ও প্রশাসনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচে গিয়ে একটি পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


‎আলোচনার একপর্যায়ে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা উপস্থিত সিবিএ নেতৃবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, তাই এর সক্ষমতা বাড়াতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বন্দরের রাজস্ব আহরণ ও আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। বন্দরকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে এবং অপচয় রোধ করতে তিনি সিবিএ নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে বন্দরের প্রতিটি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার জন্য তিনি বন্দর প্রশাসনের সকল বিভাগকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন।


‎নবনির্বাচিত সিবিএ নেতাদের সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনামূলক বৈঠকটি মোংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি কমিয়ে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বন্দর পরিচালনার এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি আনবে। বন্দরের আয় বৃদ্ধির যে লক্ষ্য চেয়ারম্যান মহোদয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দর আরও বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সার্বিকভাবে, এই বৈঠকটি বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে একটি দায়িত্বশীল ও উৎপাদনমুখী কর্মপরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টরা।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024