দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ীস্থ ঐতিহ্যবাহী মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১তম ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা। চূড়ান্ত খেলায় পীরগঞ্জ জয় স্পোর্টিং ক্লাব, ঠাকুরগাঁও দিপু ট্রেডার্সকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে ঠাকুরগাঁওয়ের দিপু ট্রেডার্সকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে পীরগঞ্জ, রংপুরের জয় স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জয় স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড় জোবায়ের।

ফাইনাল খেলাকে ঘিরে শুরু থেকেই মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও ফুটবলপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। নির্ধারিত সময়ের খেলায় উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত জোবায়েরের করা একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে জয় স্পোর্টিং ক্লাব।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। চ্যাম্পিয়ন দলকে ১ লাখ টাকা, ট্রফি ও মেডেল এবং রানার্সআপ দলকে ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি ও মেডেল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম নবী দুলাল। উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান উজ্জল, দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি নুরুজ্জামান সরকার, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোস্তফা কামাল মিলন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রুবেল ইসলাম, ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সদস্য মোঃ রেজাউর রহমান হিরু, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সপু আহমেদ, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির আপেলসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক ও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রেহাতুল ইসলাম খোকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

টুর্নামেন্টের ধারাভাষ্যকার ছিলেন মোঃ রফিক। ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম শ্রেণির রেফারি গোবিন্দ চন্দ্র রায়। সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষ্ণ চাকমা ও ফরহাদ চৌধুরী।

টুর্নামেন্টের পুরো আয়োজনজুড়ে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। ফাইনাল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক। করতালি ও উচ্ছ্বাসে তারা খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় ফুটবলের জনপ্রিয় এই আয়োজনের ১১তম আসরের সফল সমাপ্তি ঘটে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024