|
Date: 2026-09-18 23:11:29 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধা ঝমেলা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর একাকীত্বের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শয্যাশায়ী এই বৃদ্ধার দিন কাটছে চরম দুর্ভোগের মধ্যে।
কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। বিছানা থেকে ওঠা, বসা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ, কোনোটিই নিজের মতো করে করতে পারেন না তিনি। এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার কাজও করতে হয় বিছানায় শুয়েই। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন দিন আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি আগে মারা যান ঝমেলার স্বামী। তার একমাত্র ছেলে জীবিত থাকলেও মায়ের তেমন খোঁজখবর নেন না। প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান একমাত্র মেয়েও। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকটা নিঃসঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে একসময় নিজের ভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে ঝমেলাকে। কিন্তু তাতেও ফিরে পাননি সুস্থতা। বর্তমানে অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ওষুধসহ চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্যও নেই তার।
শুধু চিকিৎসাই নয়, তার জীবনযাপনের মৌলিক সুবিধাগুলোও অত্যন্ত নাজুক। বৃদ্ধার ঘরে এখনো বিদ্যুতের সংযোগ নেই। ফলে অন্ধকার ঘরেই কষ্টে দিন-রাত পার করতে হয় তাকে। অসুস্থ শরীর নিয়ে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার সুযোগটুকুও নেই তার।
ঝমেলা একসময় জুসনা নামে একটি মেয়েকে নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জুসনার বিয়ে হয়। কিন্তু সেই পরিবারও বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও বৃদ্ধার নিয়মিত দেখাশোনা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে ঝমেলার খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে চিকিৎসা, ওষুধ, বিদ্যুৎ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকলেও তিনি কোনো সরকারি ভাতা বা নিয়মিত সরকারি সহায়তা পান না।
জীবনের শেষ সময়ে ঝমেলার চাওয়া খুব বেশি নয়; কিছুটা চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, নিয়মিত দেখাশোনা এবং নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ব্যবস্থা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে জীবনের শেষ দিনগুলো অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন এই অসহায় বৃদ্ধা।
© Deshchitro 2024