|
Date: 2026-09-19 20:25:59 |
অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসায় আসমা চৌধুরী (৪৮) নামে এক হৃদরোগী নারীকে লাঞ্ছিত ও উগ্র আচরণের অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক ডা. মোঃ আকমত আলী দিপু’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ঢাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেম্বার চিকিৎসক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা আসমা চৌধুরী কুইন্স হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে ৭০০ টাকা ফি দিয়ে পরামর্শ নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে কিছু শারীরিক পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর সুবিধার্থে ভুক্তভোগী ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করান। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় ডা. আকমত আলীর চেম্বারে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কেন পরীক্ষা করানো হলো—এই অজুহাতে চিকিৎসক অত্যন্ত উগ্র আচরণ করেন, ধমক দেন এবং রিপোর্টগুলো ‘ভুল’ বলে তাঁর মুখের ওপর ছুঁড়ে মারেন। হৃদরোগী আসমা চৌধুরী এমন অপেশাদার আচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট দেখার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কথা না থাকলেও ডা. আকমত আলী জোরপূর্বক পুনরায় ৭০০ টাকা ভিজিট আদায় করেন। একই সাথে আগের সব রিপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে কুইন্স হাসপাতাল থেকেই নতুন করে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আসমা চৌধুরী জানান, সরকারি ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই উভয় দপ্তরে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. আকমত আলীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগী দেখায় ব্যস্ত আছেন জানিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, বিষয়টিকে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করে গুরুত্বের সাথে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© Deshchitro 2024