‎যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু র..


‎যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ আট দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট। রোববার দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রটির এই বন্ধ থাকা অংশ থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ থাকার পর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদা মেটাতে এই ইউনিটটির সচল হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত রোববার থেকে সৃষ্ট এই আকস্মিক অচলাবস্থার কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভারসাম্যে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, যা এখন কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এখন থেকে চাহিদামাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। জাতীয় গ্রিডে এই বাড়তি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার ফলে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে। উৎপাদন বন্ধ থাকার এই দীর্ঘ আট দিনে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ ও প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে ত্রুটি সারিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েই গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও যৌথ উদ্যোগের এই মেগা প্রকল্পগুলোতে এ ধরনের স্থবিরতা কেন বারবার দেখা দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বিপর্যয় রোধে নিয়মিত এবং কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ protocols বা কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অন্যথায় দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই যাবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সচেতন মহল। প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষ নজরদারির মাধ্যমে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই যেন ভবিষ্যতে কোনো রকম বিঘ্ন ছাড়াই পূর্ণ সক্ষমতায় সচল থাকতে পারে, সেটাই এখন মূল প্রত্যাশা। কয়লার পর্যাপ্ত মজুদ এবং দুটি ইউনিটের একসঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দিনশেষে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। রামপালের এই দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যে গতির সঞ্চার হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতেও বজায় রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। জ্বালানি খাতের এই ঘুরে দাঁড়ানো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে কঠোর তদারকি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024