জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলা পর্যায়ে গ্রীণ ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সামস্-এর আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেট্জ বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন “আদিবাসী অধিকার ও পরিবেশ রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ” প্রকল্পের আওতায় সামস্ ট্রেনিং সেন্টারে এ নেটওয়ার্ক গঠন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক রনজিত বর্মন।

সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরের তিনটি ইউনিয়নের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী মুন্ডা, বাগদি ও বনজীবী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও সুপেয় পানির সংকটসহ নানা ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এসব জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও অধিকারকে সামনে রেখে উপজেলা পর্যায়ে একটি সমন্বিত বহু-পক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।

গঠিত গ্রীণ ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইউনিয়নভিত্তিক অভিযোজন পরিকল্পনা ও স্থানীয় বাস্তবতার প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি-সংলাপ, জবাবদিহিতা এবং জলবায়ু ও মানবাধিকার বিষয়ে যৌথ অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কটি ভূমিকা রাখবে।

সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রীণ ক্লাইমেট অ্যাকশন টিমের সদস্য, জলবায়ু ও মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের উপজেলা গ্রীণ ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সামস্-এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা, কো-অর্ডিনেটর রামপ্রসাদ মুন্ডা, যীশুনাম আশ্রমের পরিচালক ফাদার লুইজি পাজ্জি, শিক্ষক রনজিত বর্মন, সিডিও-এর নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান, মরমী মহিলা উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রতিমা রানী, কারিতাসের সিএফ হরিদাস মন্ডল এবং বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো. হাবিবুর রহমান।

এছাড়া গ্রীণ ক্লাইমেট অ্যাকশন টিমের সদস্য এবং সামস্-এনগেজ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কমিউনিটি কো-অর্ডিনেটর অলোক কুমার পাল।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024