|
Date: 2026-09-21 02:23:13 |
মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
চোর সন্দেহে কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনায় মো. ফয়সালকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে হত্যার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন মানুষ অপরাধী কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আইন ও আদালতের। সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটকে নির্যাতন বা হত্যা করার অধিকার কারও নেই।
প্রকাশিত তথ্য ও ভিডিওর ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কে আটক করেছে, কে নির্যাতন করেছে এবং কারা ঘটনাটি দেখেও তাকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়নি সবকিছু তদন্তের আওতায় আসা জরুরি। কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করার আগে তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। আজ একজনকে চোর সন্দেহে নির্যাতন করা হলে, আগামীকাল একই অজুহাতে অন্য কোনো নিরপরাধ মানুষও সহিংসতার শিকার হতে পারেন। এ ধরনের ঘটনা মানুষের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর আস্থাকে দুর্বল করে।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সভ্য সমাজের নিয়ম। শাস্তি দেওয়ার নামে নির্যাতন, অপমান কিংবা প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত যেন কাজ না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
একজন মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব। ফয়সালের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত না হন এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা। সন্দেহের নামে হত্যা নয়, প্রতিশোধ নয় আইনের মাধ্যমে বিচার চাই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।
© Deshchitro 2024