|
Date: 2026-09-22 23:14:27 |
সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ জন বিসিআইসি সার ডিলারসহ ১৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে তাদের শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন সার ডিলার মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। এছাড়া ডিলারদের পরিচালনাকারী হিসেবে মামলার আসামি করা হয়েছে আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতনকে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত ২২ জুলাই ২০২৬ শেরপুর সদর উপজেলার ১৫ সার ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত মৌসুমে শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শনের সময় সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশমেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে সরকারি বরাদ্দের সার বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।
এতে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হয় এবং কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তারা শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
© Deshchitro 2024