‘

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম। 


বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, অশালীন মন্তব্য ও পরস্পরের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক দলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘লেখা আজকাল কেউ পড়ে না, লেখক দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক লেখায় তিনি সমাজের বর্তমান চিত্র, মানুষের পারস্পরিক সম্মানবোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহার এবং ভালো কাজের আড়ালে থাকা স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। দলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বহির্বিশ্বের সংস্কৃতির মধ্যে আকাশ-জমিন পার্থক্য রয়েছে। বহির্বিশ্বে অনেক কিছু না থাকলেও সেখানে সভ্যতা ও পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ রয়েছে। এমনকি শত্রুর সঙ্গেও সামনাসামনি হলে সম্মানজনক আচরণ করার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই বিরল।


তিনি আরও বলেন, কাউকে গালি দেওয়া খুব সহজ। এর জন্য কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সেই গালি সহ্য করার জন্য ধৈর্য, শিক্ষা ও মানসিক শক্তির প্রয়োজন। একটি মুখ থাকলেই নোংরা কথা বলা যায়, কিন্তু যার মুখের পাশাপাশি বিবেকও রয়েছে, সে কোনো পরিস্থিতিতেই নোংরা ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। ‘ভালো হওয়া আর ভালো সাজা এক নয়" উল্লেখ করে সাংবাদিক দলিলুর রহমান বলেন, ভালো সাজার চেষ্টা করা মানুষের যেকোনো সময় মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয় থাকে। আর যখন সেই মুখোশ খুলে যায়, তখন তাকে দ্বিগুণ অসম্মানের মুখোমুখি হতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, ফেসবুক বর্তমানে অনেকাংশেই নোংরা মন্তব্য ও গালিগালাজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এসব মন্তব্য যারা করেন, তাদের আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনেরা এসব দেখেন না কি এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিবেকবান মানুষ শুধু এই বিষয়টি বিবেচনা করেই অন্যকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলে দলিলুর রহমান বলেন, সামান্য ক্ষমতা বা প্রভাব পেলেই কেউ কেউ কখন, কীভাবে এবং কার ওপর সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করবে, তার জন্য ওঁত পেতে থাকে।

সমাজে ভালো কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অলিগলিতে নানা ধরনের ভালো কাজ হচ্ছে। তবে এসব ভালো কাজের পেছনেও অনেক সময় কোনো না কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থ নিহিত থাকে। তার মতে, শতভাগ নির্ভেজাল ও নিঃস্বার্থ ভালো কাজ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

তার এই বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, মানুষের নৈতিকতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। আমরা কি সত্যিই সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি প্রযুক্তির উন্নতির আড়ালে হারিয়ে ফেলছি মানবিকতা, বিবেক ও পারস্পরিক সম্মান?

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024