|
Date: 2026-09-28 14:09:19 |
আশাশুনিতে ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ :
হাজার বিঘার মৎস্যঘের ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে।
সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই ভাঙন ভোরের দিকে মারাত্মক আকার ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যেই বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশ এবং ওয়াবদা সড়কের একটি বড় অংশ নদী ও সংলগ্ন খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জরুরি ভিত্তিতে এ ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১২ থেকে ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোরের আলো ফুটতেই ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। সম্ভাব্য প্লাবন থেকে বসতবাড়ি ও লোকালয় রক্ষা করতে তারা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধকাজে নেমে পড়েন। চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও শত শত স্থানীয় বাসিন্দা মাটি ও বালির বস্তা ফেলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষোভ ও ক্ষোভমিশ্রিত কণ্ঠে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমাদের সারা বছরই নদীর প্রাবল্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। উপকূলীয় এ এলাকাটি গত কয়েকটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলে উঠে সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল; গাছে গাছে নতুন পাতা আর ফসলে ছেয়ে যাচ্ছিল ক্ষেত। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসীনতার কারণে আবার সবকিছু ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই মুহূর্তেই বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে হাজার হাজার বিঘার মৎস্যঘের ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, ‘সকাল থেকেই গ্রামবাসী মিলে কোনোমতে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। তবে বাঁধের ঠিক সামনেই খাল থাকায় পানির তোড় ও বিপদের ঝুঁকি অনেক বেশি। অবিলম্বে টেকসই ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে। পাউবো সাধারণত সব বাঁধ ভেসে যাওয়ার পর জাগে, আগে
থেকে প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থা তাদের নিতে দেখা যায় না।’
ভাঙনের খবর পেয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রাথমিক জরুরি কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে জরুরি সংস্কারব্যবস্থা নিতে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওয়ানা হয়েছি। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী আনুমানিক ৬০ মিটারের মতো বাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
এদিকে সরকারি সহায়তার আশায় বসে না থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও পৈতৃক ভিটা বাঁচাতে নদীর পাড়ে চরম ঝুঁকির মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এলাকাবাসীর জোর দাবি—প্রতিবার দুর্যোগের পর এ ধরনের সাময়িক নড়বড়ে মেরামত নয়; উপকূলবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে দ্রুততম সময়ে আধুনিক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
© Deshchitro 2024