সাতক্ষীরার প্রায় তিনশত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

ফিতা কেটে এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

মেলা উপলক্ষে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে। এবারের মেলায় প্রায় ১৫০টিরও বেশি স্টল বসেছে। এসব স্টলে বিভিন্ন ধরনের মনোহারি পণ্য, লৌহজাত সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য, নানা ধরনের মিষ্টি ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া যাবে। শিশু-কিশোরসহ দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, রেলগাড়ি, নৌকাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ২০ দিনব্যাপী চলবে। মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মেলায় চাঁদাবাজি, জুয়া ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি মেলা এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে নির্বিঘ্নে নারী, শিশু, বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় অংশ নিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুড়পুকুর মেলা চলাকালে সাতক্ষীরার সার্কাস প্যান্ডেল ও রকসি সিনেমা হলে জঙ্গিদের বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। ভয়াবহ ওই ঘটনার পর ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার জৌলুস ও ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। দীর্ঘ সময় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলার পর আবারও ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে ঘিরে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024