|
Date: 2026-10-01 18:17:06 |
রাজবাড়ীর পাংশায় জুয়েলারি দোকান থেকে চুরি হওয়া ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালংকার ও ২২০ ভরি রৌপ্যালংকার উদ্ধার করেছে পাংশা মডেল থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার, রৌপ্যালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ২০টি স্বর্ণের আংটি, ১৬ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ২০ জোড়া স্বর্ণের পাশা দুল, চারটি স্বর্ণের গলার হার ও ১০টি স্বর্ণের চেইন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ ভরি রুপার গহনা ও নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৫৫ লাখ টাকা এবং রুপার গহনার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর পাংশা থানা-পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশের দাবি, তদন্তে খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ওই জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনা টাকা উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২৮ সেপ্টেম্বর লিটন ও অপর এক আসামি দোকানের মালিক শহিদুল ইসলামকে জলিলপাড়া এলাকায় লিটনের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগে তাঁকে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে যান।
পুলিশ আরও জানায়, দোকানের অপর কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার খেতে পাঠিয়ে দিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণ, রুপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে যান লিটন। পরে দোকানের চাবি আবার শহিদুল ইসলামের পকেটে রেখে তাঁকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর পাংশা মডেল থানার একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর লিটনের দেখানো জায়গা থেকে ৩০টি ছোট-বড় স্বর্ণের আংটি, ১১টি চেইন, একটি সীতাহার, তিনটি পল, একটি চান, ২৬ জোড়া ছোট-বড় কানের দুল ও একটি ব্রেসলেট উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি রুপার চেইন, ছয়টি বাজু, চারটি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুড়ি, ৩২টি ছোট-বড় তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল ও ১৩টি চানসহ মোট ২২০ ভরি রৌপ্যালংকার উদ্ধার করা হয়। এসব রৌপ্যালংকারের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ও অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাংশা মডেল থানার মামলাটি পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩২৮/৩৮১ ধারায় রুজু হয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ও সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
© Deshchitro 2024