লাখাইয়ে সুতাংনদীর স্তূপীকৃত বালু নিয়ে নানা সমস্যা নিরসনে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।   লাখাই সুতাং নদী খনন কাজে শুধু আমার একার উপর দায়িত্ব নায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর দায়িত্ব রয়েছে বললেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান। একান্ত সাক্ষাৎকার কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সদ্য বিদায়ী ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম থাকাকালীন সময়ে সুতাং নদী খননের বালু মাটি প্রকাশ্যে নিলাম দিয়েছিলেন কিন্তু নিলামকারীগন প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা জমা দিলেও এখন পর্যন্ত নিলামকারীগন সমুদয় টাকা জমা না দিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ বিষয়ে নিলামকারী আজম মিয়া বলেন, নিলামের বালু মাটি আনতে জনগণের তোপের মুখে পড়তে পারি তাই প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করতে সময় চেয়ে আবেদন করেছি আমরা। তবে আমরা নিলামকারীগন নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে আমরা নির্বিঘ্নে বালু মাটি আনতে পারি সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তঃ হলেই নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করে দিব।  এ বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন নিলামকারীগন নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করা না হলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে  এবং  এ উপজেলায় নদী খননের বালু মাটি যে যে স্থানে রয়েছে সব গুলো স্থানের বালু মাটি নিলামের মাধ্যমে সরকারের কোষাগার জমা করা হবে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব এসিস্টেন্ট ইন্জিনিয়ার  একরামুল হক বলেন কিছু দিনের মধ্যেই নিলামকৃত বালু মাটি নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্তঃ নিয়ে লাখাই, বামৈ ও বুল্লা ইউনিয়নের যে সব এলাকায় নদী খননের বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে সে সব নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।   বামৈ ইউনিয়নের ভাদিকারা অংশ হইতে বুল্লা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব এসিস্টেন্ট ইন্জিনিয়ার শামীম ভুইয়া বলেন জনৈক সাইফুল ইসলাম একটি লিখিত  দরখাস্তের মাধ্যমে আবেদন করে বলেন আমরা নদী খননের বালু মাটি নিজেরা বালু মাটি কৃষকের ফসলী জমিতে স্তুপ রাখার দায়ীত্ব গ্রহন করার অঙ্গিকার এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে বালু মাটি স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এ  বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন নদী খননের বালু মাটি বোর্ড মিটিং এ বসে সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী সমস্ত বালু মাটি নিলামের আওতায় এনে নিলাম দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর সুত্রে জানা যায়,  গত ২৫ আগষ্ট বিদায়ী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম লাখাই ইউনিয়নের ১১টি স্থানের স্তুপকৃত বালু মাটি মধ্যে ৬ টি স্থানের বালু মাটি প্রকাশ্যে নিলাম দেয়া হয়েছিল। সুতাং নদী বালু মাটি নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে লুটপাটের মহোৎসব এ নিয়ে জনসাধারণের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন। আবার অনেকে অভিযোগ তুলছেন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বালু মাটি নিয়ে রমরমা বানিজ্যে  করছেন মর্মেও অভিযোগ উঠছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে  আরো অভিযোগ রয়েছে এলাকার কৃষকের ফসলী জমিতে মাটি ভরাট করে অবৈধভাবে বালু মাটি  স্তুপ করে রাখা হয়েছে সময় হলে ওই বালু মাটি বিক্রি করবেন। কৃষকরা  বলছেন যে যেভাবে পারছেন অবৈধভাবে এলাকার সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকই অভিযোগ করছেন বালু মাটি উত্তোলনকারী ইমরানের উপর। তিনি অনেক এর কাছে থেকে  লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বালু মাটি দেয়ার নাম করে কিন্তু তিনি বালু মাটি না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা সর্বসাধারণের বক্তব্য  জরুরী ভিত্তিতে নদী খননের বালু মাটি নিলামের আওতায় আনার দাবী জানান।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024