আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনে প্রতিকার দাবী করে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। 
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগিসূত্রে জানাগেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমপ্লেক্স ক্যাম্পাস অপরিস্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারনে রোগি ও রোগির স্বজনদের দুর্গতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের বাইরের পরিবেশ বর্ষা মৌসুমে ছিল খুবই নাজুক, মশা জন্মের অভয় আশ্রম ও দুর্গন্ধে ছিল পরিবেশ দুষিত। হাসপাতালের রোগিদের থাকার কক্ষ নোঙরা কম থাকলেও টয়লেট ও বেসিং ব্যবহার কষ্টকর। পাকঘরের অবস্থাও ভাল নয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ গোলদার রূঢ় স্বভাবের, দুর্নীতি পরায়ন, অসদাচরণকারী, কর্মস্থলে ইচ্ছেমত যাতয়াত, মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করা, খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ দাবী ও হাসপাতালের ঔষধ নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে ড্রাইভারের মাধ্যমে নির্দ্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি রেট অনুয়ায়ী প্রতি কিঃমিঃ ১০ টাকা হারে ভাড়া থাকলেও নানা তালবাহনা করে টাকা অতিরিক্ত আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে সাতক্ষীরা হাসপাতালে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০০ টাকা, আর যাতয়াত খরচ ধরলে ৬০০ টাকা। কিন্তু ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রোগিরা হাসপাতালে গিয়ে ঠিকভাবে ঔষধ পায়না, মাসের শুরুতেই ঔষধ ফুরিয়ে যায়, আবার কখনো কখনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের পকেটে বড় সংখ্যার ওষুধ বিতরণ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। 
উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো দেখভালেও রয়েছে নানা অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা থেকে আশাশুনি যাতয়াতের সময় এবং উপজেলা থেকে কোন কাজে যাওয়ার পথে মাঝে মধ্যে ২/১টি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদধুলি পড়ে থাকে। অভিযোগ আছে, উপজেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে তার পদছায়া পড়েনি। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমনই যাতয়াত সুবিধা বেশকিছু ক্লিনিকে যোগাযোগ করা হয়। তাদের থেকে পাওয়া তথ্যে দেখাযায় প্রত্যান্ত এলাকার কোন ক্লিনিকে গমন দূরের কথা যোগাযোগের পথের অধিকাংশ ক্লিনিকে ডাঃ নীতিশ গোলদার যাননি। অভিযোগ রয়েছে বালিয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিক চরম অনিয়মের মধ্যে চলে আসলেও কোন প্রতিকার হয়নি। এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করলেও প্রতিকার পায়নি এবং চিকিৎসা সেবার প্রতিকারে অভিযোগ করতে গেলে উল্টো মামলা করার হুমকী দিয়ে থাকে বলে দাবী করেন। এছাড়া হাসপাতালের কোয়াটারে না থেকেও বাসা ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আশাশুনি হাসপাতালে রোগি ভর্তির সুবাধে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আশাশুনির মোসাদ্দেক  হোসেন বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে স্লিপ/টোকেন নিয়ে কয়েকবার কাউন্টারে ওষুধ আনতে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। বলা হয় ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। ওষুধ না থাকলে ডাক্তার সাহেব লিখলেন কেন প্রশ্নের সন্তোষ জনক জবাব পায়নি। তিনি আরও বলেন, ওষুধ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ফলে বাকী ১৫ দিন রোগিদের ভোগান্তি লেগে যায়। ওষুধ নাই বললেও টোকেন ঠিকই রেখে দেয়া হয়। 
এব্যাপারে ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। আপনারা অফিসে আসলে বিস্তারিত বলতে পারবো।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024