‎
‎বাগেরহাটের মোংলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়েছে, যেখানে বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
‎সোমবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
‎দিবসটির মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতি গঠনে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা। র‍্যালি ও পরবর্তী আলোচনা সভায় স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন, যা শিক্ষক সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার ও সামাজিক মর্যাদাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে আরও সুসংহত করার আহ্বান জানানো হয়।
‎
‎আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষকদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভুক্তভোগী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মতে, যোগ্য জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকরা যে পরিমাণ দায়িত্ব পালন করেন, সে অনুযায়ী তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
‎মোংলা সরকারি কলেজের শিক্ষক ডক্টর অসিত কুমার সাহা ও চালনা বন্দর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মো. রুহুল আমিন তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষকদের মর্যাদা কেবল দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের কাজের পরিবেশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আপন বিশ্বাস এবং সরকারি টিএ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শেফা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করার দাবি জানায়।
‎
‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি ও স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছার বিষয়টি উঠে আসে। সরকারি টিএ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তালুকদার মো. জিহাদসহ অন্যান্য বক্তারা দাবি জানান যে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর জোর দেন এবং নিয়মিত মনিটরিং ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষক মহলে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াস। শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে আয়োজিত এই আলোচনা সভাগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। পরিশেষে, শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা রক্ষা এবং তাদের মেধার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও শিক্ষিত জাতি গঠন সম্ভব, যা মোংলার এই অনুষ্ঠানের মূল দর্শন হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং স্থানীয় জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
‎

‎
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024