পূজা শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারী বাড়ি দুর্গামন্দিরে তৈরি হওয়া ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমার ওপর বসানো হচ্ছে মুগ ডাল। কয়েক মণ মুগ ডালের আবরণে সাজানো হচ্ছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও দেবীর বাহন সিংহকে।বুধহাটা কাছারী বাড়ি দুর্গামন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। শিল্পীর নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবীর অবয়ব। মাটির তৈরি প্রতিমার ওপর আঠার সাহায্যে একটির পর একটি মুগ ডাল বসানো হচ্ছে। সোনালি রঙের মুগ ডাল বসানোর পর প্রতিমাটি পাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন রূপ।প্রতিমাশিল্পী কপিল মুনি প্রহ্লাদ বিশ্বাস দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিমাটি তৈরির কাজ করছেন। প্রথমে বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করা হয়। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় মুগ ডাল বসানোর কাজ। প্রতিমা সাজাতে ইতিমধ্যে কয়েক মণ মুগ ডাল ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পী কপিল মুনির প্রহ্লাদ বিশ্বাস বলেন, মুগ ডাল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ। প্রতিটি ডাল হাতে নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসাতে হচ্ছে। এতে ধৈর্য ও শ্রম দুটোই প্রয়োজন। তবে কাজ শেষ হলে প্রতিমাটি দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে বলে তিনি আশা করেন।মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ কর্মকার বলেন, প্রতিবছরই বুধহাটা কাছারী বাড়ি দুর্গামন্দিরে প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। এবার কৃষির সঙ্গে দুর্গাপূজার ঐতিহ্যকে যুক্ত করে মুগ ডাল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।তিনি বলেন, পূজা এখনো শুরু হয়নি। তবে প্রতিমা তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পূজা শুরু হলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রতিমা দেখতে আসবেন বলে তাঁদের আশা।মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত গোপাল দাস বলেন, মুগ ডালের আবরণে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী। প্রতিমার কাজ দেখতে ইতিমধ্যে অনেকে মন্দিরে আসছেন। পূজার সময় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।পূজার সাথে জড়িত বুবু দেবনাথ বলেন,বুধহাটা কাছারী বাড়ি দুর্গামন্দিরের এই আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় কৃষিজীবনের একটি পরিচিত উপকরণ মুগ ডাল যুক্ত হয়েছে। সাধারণত মাটি, খড়, বাঁশ ও রঙ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হলেও এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুগ ডালের কারুকাজ। এতে প্রতিমার চেহারায় এসেছে আলাদা বৈচিত্র্য।এ ছাড়াও মনোমুগ্ধ কর আলোক সজ্জা  থাকবে।পূজা শুরুর আগে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমার কারুকাজ, মণ্ডপসজ্জা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাজও এগিয়ে চলছে। শিল্পীর হাতে মুগ ডালের একেকটি দানা বসার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ রূপ পাচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা।বুধহাটা কাছারী বাড়ি দুর্গামন্দিরের এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ এই মুগ ডালের প্রতিমা। পূজা শুরু হওয়ার আগেই যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024