‎
‎বাগেরহাটের মোংলায় যাত্রীবাহী বাসের গোপন চেসিস থেকে ১২০ কেজি গাঁজাসহ তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬।
‎
‎বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের ব্রাহ্মণমেঠ এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এক বিশেষ অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ তিন পাচারকারীকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬।
‎
‎গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ঢাকার কাঁচপুর থেকে মোড়েলগঞ্জ হয়ে মোংলাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে ঘিরে ফেলা হয়। আটকদের মধ্যে রয়েছেন পারভেজ, নুর আমিন ও আমিনুর রহমান, যাদের বাড়ি রংপুর সদরে।
‎
‎মূলত যাত্রীবাহী পরিবহনের আড়ালে মাদক সিন্ডিকেট কীভাবে সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অবৈধ মাদকের চালান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে, এই ঘটনাটি সেই ভয়াবহ চিত্রই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বাসের কাঠামোর ভেতরে বিশেষ কায়দায় তৈরি গোপন চেসিস থেকে ছয়টি কার্টন উদ্ধারের মাধ্যমে পাচারকারীদের কৌশলগত অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
‎
‎ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবহন খাতের এমন নগ্ন অপব্যবহার। সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরিবহনগুলো এখন অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
‎
‎আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, তারা এর আগেও একই কৌশলে একাধিকবার মাদকের চালান পরিবহন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের চেসিসের ভেতরে গাঁজার মতো মরণনেশা লুকিয়ে রাখা কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং পরিবহন খাতের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
‎
‎অভিযান পরিচালনাকারী এসআরবি-৬-এর উপপরিচালক ও মিডিয়া কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কেবল এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেই মাদকের এই বিশাল নেটওয়ার্ক নির্মূল করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। পরিবহন মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা এবং বাসের স্টাফদের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি কঠোর নজরদারির দাবি রাখে। নিয়মিত রুট চেকিং এবং পরিবহন কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন জোরদার না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
‎
‎মাদক চোরাচালানের এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি দেশের পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যাত্রীবাহী বাসকে মাদকের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবহন ভীতি তৈরি করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পরিবহনের মতো সেবামূলক খাতকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা এবং কঠোর আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই চোরাকারবারিদের কবলে পড়ে আরও নাজুক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।
‎

‎
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024