বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিত একটি লতানো উদ্ভিদ তেলাকুচা (Coccinia grandis)। এর কচি পাতা ও অন্যান্য অংশ দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণাতেও বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে তেলাকুচার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। 

তেলাকুচা পাতার সম্ভাব্য উপকারিতা

১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

তেলাকুচার পাতার নির্যাস নিয়ে কয়েকটি মানব গবেষণায় রক্তে গ্লুকোজ কমার সম্ভাবনা দেখা গেছে। ২০২১ সালের একটি র‍্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণাতেও নতুন শনাক্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট তেলাকুচা-ভিত্তিক হারবাল প্রস্তুতি ব্যবহারে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের উন্নতি পাওয়া যায়। 

২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে

তেলাকুচায় ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক যৌগসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান পাওয়া গেছে। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা রয়েছে। 

৩. প্রদাহ কমানোর সম্ভাবনা

ল্যাবরেটরি ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণায় তেলাকুচার বিভিন্ন অংশে প্রদাহ-নিয়ন্ত্রণকারী কার্যক্রমের সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে মানুষের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। 

৪. খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য

কচি তেলাকুচা পাতা রান্না করে বা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তাই এটি শুধু লোকজ ভেষজ নয়, কিছু অঞ্চলে খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

তেলাকুচা পাতা ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণকারী কেউ নিয়মিত বেশি পরিমাণে তেলাকুচা/এর নির্যাস খেলে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে—তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটিকে চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তেলাকুচার বিভিন্ন নির্যাস ও উচ্চমাত্রার ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024