মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম

প্রবাসে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, কিন্তু ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। যে মানুষটিকে ঘিরে স্বজনদের ছিল কত আশা, কত স্বপ্ন সেই মানুষটির এমন করুণ বিদায়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। গ্রামের বাড়িতে মনসুর আলমের মরদেহ পৌঁছাতেই স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় পরিবারের সদস্যদের কান্না যেন কিছুতেই থামছিল না।

সৌদি আরবের রিয়াদে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার প্রবাসী মনসুর আলমের (৩০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ সুখছড়ি এলাকার আকিকার পাড়ার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মনসুর আলম লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুখছড়ি এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সৌদি আরবের রিয়াদে তার চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মনসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিয়জনের মৃত্যুসংবাদ পরিবারকে গভীর শোকে মুহ্যমান করে তোলে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে মনসুরের বিরোধের ঘটনা ঘটেছিল। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

প্রবাসের মাটিতে জীবনসংগ্রাম করতে গিয়ে মনসুরের এমন করুণ পরিণতি তার স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যে বাড়িতে একসময় তাকে ঘিরে ছিল আনন্দ আর প্রত্যাশা, সেই বাড়িতেই তার মরদেহ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের কাছে এখন তার স্মৃতিই হয়ে থাকবে ভালোবাসা, বেদনা আর না-পাওয়ার এক দীর্ঘ অধ্যায়।

মরহুম মনসুর আলমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। 


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024