|
Date: 2026-10-12 21:38:04 |
রংপুরের পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।
কর্মশালায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পাঁচটি কোয়ান্টাইলে—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—বিভক্ত করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ বা তার কম নম্বর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।
তিনি আরও জানান, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। উপকারভোগীদের তথ্য গোপন করার কোনো সুযোগ থাকবে না। সরকারি অন্যান্য সুবিধা গ্রহণকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন না। এ কার্যক্রমে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে (জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে) দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১,১২,০৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১,৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮৬.৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫.৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫৭.২০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
জুলাই, ২০২৬ হতে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০.০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৩০০.০০ (বারো হাজার তিনশত) কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ৫টি কোয়ান্টাইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধু ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন।
১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ হতে দেশব্যাপী একযোগে সকল এলাকার খানা/পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীগণকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে।
কর্মীগণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে ইনপুট করবেন। এটি কার্যকরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, Network Based Cyber Security, Work Force Management, Network Operation Center (NOC) room স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৮৪ কোটি পরিবারের (প্রতি ৪ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ হতে যোগ্য উপকারভোগীগণ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ০৩ অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে। উপকারভোগীগণকে প্রদেয় ফ্যামিলি কার্ডটি Dual Chip, QR Code ও Near Field Communication (NFC) সুবিধা সম্বলিত, যা সরকারের TakaPay পেমেন্ট স্কিমের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীগণ ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি বিতানের Point of Sales (POS) এবং Mobile Financial Services (MFS) হতে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
কর্মশালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন, থানা ওসি সেলিম মালিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে যুক্ত হন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
© Deshchitro 2024