চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযুক্ত বড় ভাই সাহাব উদ্দিনের দাবি, জায়গাটি তাঁর নিজস্ব উঠান এবং সেখানে তিনি দেয়াল নির্মাণ করছেন। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া এলাকার সাহাব উদ্দিন কোম্পানী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে সাহাব উদ্দিনের দুই ছেলে মিজানুর রহমান ও মশিউর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিনের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন। সেখানে পাকা দেয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ট্রাকে করে ইট, বালু ও লোহার রড আনা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি থানায় অভিযোগ করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমি বাধা দিয়েছি। এ সময় তাঁরা আমাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগীর আরেক ভাই জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাড়িতে চলাচলের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ অন্য ভাইদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছি। আমার বড় ভাই সাহাব উদ্দিনের কাছে লাইসেন্স করা বন্দুক রয়েছে। তিনি কথায় কথায় বন্দুক দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখান।

অভিযোগের বিষয়ে সাহাব উদ্দিন বলেন, ওই জায়গা আমার উঠান। আমার জায়গায় আমি দেয়াল নির্মাণ করছি। রাস্তা আমার উঠানের বাইরে করার জন্য তাঁদের বলেছি।

বন্দুক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে লাইসেন্স করা বন্দুক আছে, এটা সত্য। আমি কখনো দু-একটি পাখিও মারিনি। নিজের নিরাপত্তার জন্য বন্দুক রেখেছি।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ভাইদের মধ্যে চলাচলের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সাথে বিষয়টি সীমাংসার জন্য বৈঠক হয়েছে। তবে সমাধান হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবার উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। আশা করি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024