|
Date: 2026-10-28 18:16:10 |
শেরপুরের শ্রীবরদীতে দাফনের জন্য জায়গা না থাকায় মেয়ের বসতঘরের ভেতরে কবর দেওয়া হয়েছিল ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে তাঁর মরদেহ তুলে নতুন প্রতিষ্ঠিত সামাজিক গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের করিম মিয়ার মরদেহ স্থানান্তর ও পুনরায় দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করিম মিয়ার একসময় আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল। তবে অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে একে একে জমিজমা বিক্রি করতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক করিম মিয়ার এক মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। অন্য মেয়ে কৌতুলী বেগম ও ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন।
কৌতুলী বেগম তিন শতাংশ জমি কিনে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন। ওই ঘরেই অসুস্থ বাবা করিম মিয়া ও মা সাজেদা বেগমকে আশ্রয় দেন তিনি। গত ২৫ অক্টোবর রাতে করিম মিয়া মারা যান। কিন্তু দাফনের জন্য আলাদা কোনো জমি না থাকায় ২৬ অক্টোবর মেয়ের বসতঘরের এক পাশে তাঁকে কবর দেওয়া হয়। ঘরের অন্য পাশে আশ্রয় নেন তাঁর স্ত্রী সাজেদা বেগম।
বসতঘরের ভেতরে মরদেহ দাফনের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে এলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক গোরস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন। সেখানেই করিম মিয়াকে পুনরায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীবরদী উপজেলা প্রশাসন করিম মিয়ার মরদেহ মেয়ের বসতঘর থেকে তুলে নতুন সামাজিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করে। এ সময় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সম্মতি জানান।
করিম মিয়ার মেয়ে কৌতুলী বেগম বলেন, ‘আমার বাবাকে আমার ঘরেই মাটি দিছিলাম। আমার কাছেই রাখছিলাম। প্রশাসনের লোক আইছে। এহন নিতেছেগা। এই জায়গা যেন তারাতাড়ি সরকারের নামে নেইখা (লিখে) দেয়।’
করিম মিয়ার ছেলে বলেন, ‘জায়গাজমি নাই তাই ঘরে মধ্যেই কবর দিছিলাম বাবারে। সামাজিক গোরস্থানে নিতাছেগা তাতে আমাদের আপত্তি নাই।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা আহাম্মেদ বলেন, ‘আমাদের কেউ বিষয়টি অবগত করে নাই। বিষয়টি জানার পর ডিসি স্যারের নির্দেশে আমরা লাশ স্থানান্তর করলাম। এলাকার লোকজনও সামাজিক গোরস্থান করার জন্য জমি দান করেছে।’
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
© Deshchitro 2024